বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৩

ফেনীতে শিশু নাশিত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ফেনী, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): জেলায় আহনাফ আল মাঈন নাশিত (১০) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গুমের মামলায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে হত্যা মামলায় ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মরদেহ গুমের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া অপহরণের অপরাধে ২জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ.এন.এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আশ্রাফ হোসেন চৌধুরী তুষার (২১), মোবারক হোসেন প্রকাশ ওয়াসি (১৯) ও ওমর ফারুক রিপাত (২২)।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন আহমদ জানান, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র নাশিত।

নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এর একপর্যায়ে নাশিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে মরদেহ রেললাইনের পাশের ডোবায় ফেলে দেয় তারা। 

এ ঘটনায় নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ পরদিন (২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর) ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই সময় দুই দিন ধরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে নাশিতের বাবাকে কল করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। পরে নিহতের বাবা মাঈন উদ্দিন পুলিশকে তুষার নামে এক কিশোরকে সন্দেহ হয় বলে জানান।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে তুষারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শহরতলীর দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে স্কুল ব্যাগসহ নাশিতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থী নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সঙ্গে ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। 

মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ উল্লেখিত ৩জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের জন্য আরো দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন খাঁন ও মামলার বাদী মাঈন উদ্দিন সোহাগ। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।