বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪১

সিএমএসএফ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: ওয়াসি আজম

সিএমএসএফ অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াসি আজম। ফাইল ছবি

আমিনুল ইসলাম

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, অবণ্টিত লভ্যাংশ ও শেয়ারের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারীর কাছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও শেয়ার (বাজারমূল্যে) সফলভাবে হস্তান্তর করেছে সিএমএসএফ।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিএমএসএফ অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াসি আজম এ তথ্য জানান। 

ওয়াসি আজম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- দাবির পরিমাণ কম হোক বা বেশি, প্রতিটি বৈধ দাবিদারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তাদের ন্যায্য সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।

তিনি বলেন, এর উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর মাত্র ২৮ টাকা পাওনা ফেরত পাওয়া থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী সিএমএসএফের মাধ্যমে ১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ গ্রহণ করেছেন। শুধু ব্যক্তি বিনিয়োগকারী নন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও অতীতে তাদের প্রাপ্য লভ্যাংশ সিএমএসএফের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

সিএমএসএফ অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাচ্যুত কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি ছিলেন। সাধারণত কোনো কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলো বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য অর্থ বা শেয়ার নিষ্পত্তির দায়িত্ব নেয় না। ফলে অনেক বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে সিএমএসএফ একটি কার্যকর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি তালিকাচ্যুত কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের দাবি যাচাই, সম্পদ নিষ্পত্তি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্য অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নিয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক বেক্সিমকো সিনথেটিকস লিমিটেডের ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেন, এ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার সিএমএসএফের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নগদ অর্থ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে বহু বিনিয়োগকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য নিষ্পত্তি সুবিধা পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, বিএসইসি প্রণীত ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী পরিচালিত সিএমএসএফ বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার, রাইটস শেয়ারসহ বিভিন্ন সম্পদের সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

সিএমএসএফ সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা নগদ তহবিল এবং প্রায় ৭০০ কোটি টাকার শেয়ার (বাজারমূল্যে) রয়েছে। এসব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সিএমএসএফ গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করছে।