শিরোনাম

॥ তিনা খানম ॥
ঢাকা, ৩০ মে, ২০২৬ (বাসস) : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, দেশে বহুদলীয় রাজনীতি চালুর ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনীতিতে তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী দর্শন ও রাজনীতিকে সামনে নিয়ে আসেন। বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকেও তিনি এই ধারণার অন্তর্ভুক্ত করেন। ফলে আমাদের সবার পরিচয় দাঁড়ায় ‘বাংলাদেশি’ বা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে।’
তিনি বলেন, সংবিধানের চার মূলনীতির একটি হলো জাতীয়তাবাদ। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়াউর রহমান এ ধারণাকে বাস্তবে একটি রাজনৈতিক চেহারা দেন।
সাইফুল হক বলেন, একজন সামরিক শাসক হয়েও নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাকশাল ব্যবস্থার অবসানের পর তিনি বহুদলীয় রাজনীতি চালু করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর বড় অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে।
তিনি জানান, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, এরপর ধারাবাহিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান এবং অনেকগুলো রক্তাক্ত ও বেদনাময় ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশকে যেতে হয়েছে। ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লব এবং কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সৈনিক-জনতার ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টাও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। এসব ঘটনার পর জিয়াউর রহমান আবার সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন।
সাইফুল হক বলেন, ‘পরবর্তীকালে তিনি যে রাজনৈতিক ধারা গড়ে তোলেন সেখানে বামপন্থী, ডানপন্থী, মুসলিম লীগ এবং সেক্যুলার-প্রগতিশীল বিভিন্ন মতের মানুষ স্থান পেয়েছিলেন। এসব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি যে রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তা কোনো বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর দল ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিএনপি যে ‘রেইনবো নেশন’-এর কথা বলছে, তার প্রাথমিক ধারণার সূচনা জিয়াউর রহমানই করে গেছেন। তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি প্রথম ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের আয়োজন করেছিলেন।’
সাইফুল হক বলেন, ‘এরপর ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হয়। যদিও ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে তাঁর দুর্ভাগ্যজনক হত্যাকা-ের পর সেই ধারাবাহিকতা আবার বাধাগ্রস্ত হয় এবং দেশ পুনরায় সামরিক শাসনের মুখোমুখি হয়।’
তিনি বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ঐক্য এবং বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এটিই তাঁর অন্যতম বড় অর্জন বা সাফল্য।’
সাইফুল হক বলেন, ‘১৯৭১ সাল পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা ১৯৭২ সালের পর অনেকের কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। মানুষ সাম্য, অধিকার ও মুক্তির যে আকাক্সক্ষা লালন করেছিল, বাস্তবে তারা এক ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের মুখোমুখি হয়। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে বিভক্তি ও বিভাজনের সৃষ্টি হয়। জন্ম হয় হিংসার।’
তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতি থেকে দেশকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক চিন্তার ভিত্তিতে ১৯ দফা কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীকালে বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে ওই ১৯ দফার আলোকে নিজেদের রাজনৈতিক পথচলা ও কর্মকা- পরিচালনা করে।’
সাইফুল হক বলেন, ‘১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠনের পর ১৯ দফা নতুন প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা পায়। পরে ২০২২ সালে বিএনপির ঘোষিত ২৭ দফার মধ্যেও ১৯ দফার ধারাবাহিকতা দেখা যায়।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এ নেতা বলেন, যদিও ১৯ দফা ঘোষণার পর সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ, প্রেক্ষিত, উন্নয়ন ভাবনা ও বাস্তবতা সামনে এসেছে। সে প্রেক্ষাপটে বিএনপির ২৭ দফা পরবর্তীতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ৩১ দফায় রূপ নেয়। এই ৩১ দফাই যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।’
সাইফুল হক বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য রয়েছে। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সূচকে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’
সাইফুল হক বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে হাতে-কলমে কাজের সংস্কৃতি গড়ে তোলেন। রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তিনি খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী ঘুরেছেন। এ কর্মসূচিতে তিনি সমাজের নানা রাজনৈতিক অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হন।
কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে খাল খনন কর্মসূচিকে জিয়াউর রহমানের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, তিনি খুব অল্প সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর নেওয়া অনেক উদ্যোগ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, যশোরের উলশী-যদুনাথ প্রকল্প কৃষি উন্নয়ন এবং ওই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাইফুল হক জানান, পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবেশী দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে সব অসুবিধাকে সুবিধায় পরিণত করা যায়। তাই সার্কের পরিকল্পনা জিয়াউর রহমানের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর দেশে শিল্প উদ্যোগ বৃদ্ধি পায় বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘এর আগে আওয়ামী লীগের তিন-সাড়ে তিন বছরে জাতীয় শিল্প কলখানা লুটপাটের স্বর্গরাজ্য হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে শিল্প উদ্যোগের বিস্তার ঘটানোর দায়িত্ব নেন জিয়াউর রহমান। শিল্প উদ্যোগের ক্ষেত্রে বিক্রির পরিমাণ তিনি বাড়িয়ে দেন।’
সাইফুল হক বলেন, সে সময় কিছু মানুষের হাতে পুঁজি সঞ্চিত হয়েছিল। ওই পুঁজিকে শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন ছিল। জিয়াউর রহমান সেই পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেন। পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগও তার সময়েই শুরু হয়।
তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাক শিল্প যে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হতে পারে, সে বিষয়েও তিনি কাজ শুরু করেছিলেন।’
মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, জিয়াউর রহমান সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রথমে তাঁর নিজের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সেই ঘোষণা পাঠ করেন।
সাইফুল হকের মতে, ‘ওই ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে দেশের মানুষকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল, অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছিল। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর ২৬ মার্চের সেই ঘোষণা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের একটি ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।’
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীকালে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনা শুরু হলে জিয়াউর রহমান জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই অসাধারণ ভূমিকা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’
সাইফুল হক বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত থাকাকালে জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাবাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। আবার জিয়াউর রহমান জীবিত থাকাকালেও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা কিংবা শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীকালে এগুলোকে আওয়ামী লীগ নিজের মতো করে ইতিহাস তৈরি করতে যেয়ে একটা রূপকথা বানিয়ে ফেলেছে। শেখ মুজিবের নামে মুক্তিযুদ্ধ চললেও তিনি স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। আবার ওই সময়কালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানসহ অন্যান্য সেক্টর কমান্ডারদের অবদানকে ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাস্তবে এটি গণযুদ্ধ ছিল। সাধারণ মানুষ এখানে অংশগ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবান্বিত।’
তিনি জানান, সেই জনযুদ্ধে তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধের নয়টি মাস নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ সেই প্রবাসী সরকারের ভূমিকাটাকেও খুবই অবমূল্যায়ন করেছে। এটাকে কখনোই তারা সামনে আনেনি। জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্য সেক্টর কমান্ডারদের বিরোচিত লড়াই ও আত্মদানের ভূমিকা আওয়ামী লীগ কখনো সামনে আনেনি। এটিকে আওয়ামী লীগের একক কৃতিত্ব দাবি করতে গিয়ে পুরো মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করা হয়েছে।
সাইফুল হক জানান, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের পর জিয়াউর রহমান গ্রেপ্তার হয়ে বন্দি হন। এরপর সেনাবাহিনীর মধ্যে চেইন অব অর্ডার ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। পরবর্তীকালে ৩ নভেম্বর আবার পাল্টা অভ্যুত্থান, আবার হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে।
সাইফুল হক বলেন, পরবর্তীকালে ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব কাজ করেছে।
তবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ পর্যন্ত একটি সেনা অভ্যুত্থানেই চট্টগ্রামে তাকে শাহাদাত বরণ করতে হয়।
সাইফুল হক বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক নেতা এবং তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রক্তাক্ত ঘটনাবলি মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছিল।
তিনি বলেন, সেই পরিস্থিতিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা, সংগঠিত করা এবং দেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ জিয়াউর রহমানের আমলেই শুরু হয়।
জিয়াউর রহমানকে একজন সৎ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিহিত করে সাইফুল হক বলেন, ‘দূর থেকে দেখেছি তাঁর সারল্য সাধারণ জীবনযাপন। তাঁর ঘনিষ্ঠজনরাও পরবর্তীতে লিখেছেন বা বলেছেন। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি সৈনিকের মতো সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। সহকর্মীদেরকেও বলেতেন সাধারণ জীবন যাপন করতে। রাজনীতিটাকে তিনি দেশ সেবা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।’
সাইফুল হক বলেন, ‘পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়াও সেই ধারা অনুসরণের চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একই চর্চা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন। তারেক রহমান বা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মত অসংখ্য ত্যাগী নেতারা আছেন যারা অনেক সুযোগ পাওয়ার পরও সাধারণ জীবনযাপন করে যাচ্ছেন।’
রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বকে অসাধারণ বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, একজন অসাধারণ নেতার প্রধান গুণ হলো প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা। যিনি সামনে তাকাতে পারেন ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম অঞ্চলে থেকে যে বিদ্রোহ করেছেন এটাই তাঁর নেতৃত্বের প্রধান গুণ। যার কোনো কথা বা বক্তব্য স্ফুলিঙ্গ তৈরি করে, দাবানল তৈরি করে সেটাই নেতৃত্ব। এ জন্য কাউকে না কাউকে ইতিহাসের দায়িত্ব নিতে হয়, ঝুঁকে নিতে হয়। জিয়াউর রহমান এই ঝুঁকে নিয়েছেন।’
সাইফুল হক বলেন, ইতিহাস কখনো কখনো পেছনের মানুষকে সামনে নিয়ে আসে, এটা হল ইতিহাসের একটি অনিবার্য জায়গা। জিয়াউর রহমান সামনেই ছিলেন, কিন্তু শেখ মুজিবুরের মৃত্যুর পরের অধ্যায় তাঁকে একেবারে পাদ প্রদীপের সামনে নিয়ে আসে। পরবর্তীকালে নানা জটিলতা মোকাবিলা করে জিয়াউর রহমান সরকার গঠন করেন। রাষ্ট্রপতি হন, দল গঠন করেন, একটা বিশাল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন। এটা নিশ্চয়ই তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সব কিছু ছাপিয়ে একটি বিশেষ সময়কে ধারণ করা, একটি রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়া, একটি জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করতে জিয়াউর রহমান অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন।’
জিয়াউর রহমানের মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং গভীর সম্মান জ্ঞাপন করি। আশা করবো, কেবল বিএনপি না, দেশের সব রাজনৈতিক নেতারাও তাঁর ইতিবাচক দিকগুলো শিখবেন, জানার ও বোঝার চেষ্টা করবেন এবং জিয়াউর রহমান তাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।