শিরোনাম

ঢাকা, ১১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সহায়তা পেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে একটি প্রতিযোগিতামূলক সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
উলকাসেমি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দেশে প্রকৌশল স্নাতকদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় এবং চিপ ডিজাইন সেবায় ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা একটি জ্ঞানভিত্তিক রপ্তানি শিল্প গড়ে তোলার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।
সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রসারে সরকারের সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপকে স্বাগত জানান এনায়েতুর রহমান। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘোষিত কর সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি এটিকে এই শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি ‘সাহসী ও স্বাগত জানানোর মতো প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, বিপুল পুঁজিনির্ভর চিপ উৎপাদনের পরিবর্তে বাংলাদেশের উচিত সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন এবং টেস্টিং ও প্যাকেজিং সেবার ওপর জোর দেওয়া।
তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজাইন সেবা দিচ্ছে।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত উলকাসেমি বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চারটি আন্তর্জাতিক ডিজাইন সেন্টার রয়েছে। সেখানে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি নোড নিয়ে কাজ করছেন ৬শ’রও বেশি প্রকৌশলী।
কোম্পানিটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু প্রযুক্তি জায়ান্টকে সেবা দিচ্ছে এবং বড় বড় সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতাদের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে।
এনায়েতুর রহমান বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে বাংলাদেশের দখল খুবই সামান্য হলেও এ ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বার্ষিক সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন রপ্তানি থেকে আয় হয় প্রায় ৬০-৮০ লাখ ডলার। যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে এটি উচ্চাভিলাষী হলেও সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে তা অর্জন করা সম্ভব।
তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার প্রকৌশল স্নাতক বের হয়, যা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য একটি শক্তিশালী মেধাভিত্তি তৈরি করে।
তবে তিনি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন, কারণ চাকরির উপযোগী হয়ে ওঠার আগে বেশিরভাগ স্নাতককেই শিল্পভিত্তিক বাড়তি প্রশিক্ষণ নিতে হয়।
এনায়েতুর রহমান নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি সুনির্দিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়ন তহবিল গঠন, দীর্ঘমেয়াদি কর অবকাশ সুবিধা, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার জন্য রপ্তানি প্রণোদনা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং আমদানি, বিনিয়োগ অনুমোদন ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান।
দেশে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক নিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপরও জোর দেন তিনি। প্রবাসীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পের সম্পর্ক আরও জোরালো হলে এই খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
এনায়েতুর বলেন, উলকাসেমি জনবল উন্নয়ন এবং উন্নত প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
তিনি জানান, শিল্পের মান অনুযায়ী ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ) সরঞ্জামের মাধ্যমে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে স্নাতকদের উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করছে কোম্পানিটির ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট।
তিনি আশা করেন, সরকারের অব্যাহত সহায়তা এবং নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার জন্য একটি স্বীকৃত গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। এর ফলে খুব ভালো বেতনের হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রচলিত খাতের বাইরে দেশের রপ্তানি ঝুড়ি আরও বৈচিত্র্যময় হবে।