শিরোনাম

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) নির্বাচিত হলে তার নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাা’কে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গতিপথ নির্ধারণ করবে। যে আকাঙ্খা নিয়ে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হয়েছে সেটিকে বাস্তবরূপ দেবে। এই নির্বাচনে আমি জয়ী হলে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো।’
সাক্ষাৎকারজুড়ে তিনি ঢাকা-১৪ আসনে নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মাদক নির্মূল এবং বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাসস’র রিপোর্টার মাহাদী হাসান।
বাসস : আপনার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার কী কী?
ব্যারিস্টার আরমান : আমাদের প্রথম অঙ্গীকার হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। জনগণের অভিযোগ নির্বাচিত হওয়ার পর এমপিরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারা কী কী কাজ করলো তার জবাবদিহিতার কোন প্রক্রিয়া নেই। আমি নির্বাচিত হলে জনগণকে আমার কাছে আসতে হবে না। আমি জনগণের কাছে যাবো। তিন অথবা ছয় মাস অন্তর আমি নিজেকে জনগণের সামনে পেশ করবো। বরাদ্দের হিসাব দেবো। সেই অনুষ্ঠানের নাম হবে- জনতার মুখোমুখি ব্যারিস্টার আরমান। সেটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেখানে যে কেউ যে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে। আমি উত্তর দিতে বাধ্য থাকবো।
আরমান বলেন, ঢাকা-১৪ আসনের সবচেয়ে বঞ্চিত এলাকা হলো কাউন্দিয়া ও বনগাঁও। অবিলম্বে সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হতেই হবে। সেখানে ব্রিজ হলে কলকারখানা গড়ে উঠবে। সেখানকার অন্যতম প্রয়োজন- একটি হাসপাতাল। নির্বাচিত হলে কাউন্দিয়ায় একটি সরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবো ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা শাহ আলী মাজার। এখানে সারাদেশ থেকে মানুষের যাতায়াতে নিরাপদ ও মানোন্নয়নের জন্য কাজ করবো। চিড়িয়াখানার কাছের হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারি উদ্যোগে মেডিকেল কলেজ করার উদ্যোগ নেবো। এছাড়াও তরুণদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি যারা ফ্রিল্যান্সিং পেশার সাথে যুক্ত হতে চান, তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আমার এই আসন থেকে চাঁদাবাজি ও মাদকের কারবারকে চিরতরে নির্মূল করবো।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
ব্যারিস্টার আরমান : আচরণবিধিটা প্রায় ৪০ পাতার এটা সবার পক্ষে পড়া সম্ভব হয় না। আমরা সেখান থেকে নির্দেশনাগুলোকে নিয়ে বুলেট পয়েন্ট আকারে আমাদের নেতা-কর্মীদের মাঝে আমরা বিতরণ করেছি, যাতে তারা বুঝতে পারে কি জিনিস তাদের মানতে হবে। এছাড়াও দায়িত্বশীল পদে যারা আছে তাদের সবাইকে আচরণবিধির ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এটা অনুসরণ করার জন্য সর্বোচ্চ নির্দেশনা দিয়েছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট প্রসঙ্গে আপনার অবস্থান কী?
ব্যারিস্টার আরমান : আমি চাই বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক। ফলে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা নতুন করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাই না। আমি ফ্যাসিবাদের অন্যতম ভুক্তভোগী। আমার মতো আর কাউকে যাতে গুম হয়ে যেতে না হয়। আমি আশাবাদী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হবে।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
ব্যারিস্টার আরমান : আমি চাই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হোক। মানুষ যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশটা ধরে রাখা। কিছু ভোটারের কাছ থেকে আমরা শঙ্কার কথা শুনতে পাচ্ছি। এই জায়গায় অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে আশ্বস্ত করতে হবে জনগণকে যে ভোটটা নিরাপদে হবে। পাশাপাশি জগণকেও আমরা সচেতন করার চেষ্টা করেছি। জুলাইয়ে যেভাবে তারা দেশকে রক্ষা করেছে ঠিক একইভাবে কেউ ভোট কেন্দ্র দখল করতে আসলে তাদেরও প্রতিহত করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ফলে কেউ এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৬ জন, নারী ২ লাখ ২৩ হাজার ৭ ও হিজড়া চার জন।
এই আসনে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু ইউসুফ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিন, গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মো. সোহেল রানা, এবি পার্টির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী।