শিরোনাম

সিলেট, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা বলেছেন।
এছাড়াও জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নারীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগসহ সিলেটকে পর্যটনসমৃদ্ধ নগর হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাবেক এমপি খন্দকার আব্দুল মালিকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের সিলেট জেলা সংবাদদাতা শুয়াইবুল ইসলাম।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির: সিলেট-১ নির্বাচনী এলাকা এবং জেলায় বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর বসবাস। জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এ জনপদের লাখ লাখ লোক দেশের বাইরে বসবাস করেন। তাই, বিশ্বব্যাপী সিলেটের একটি বড় পরিচিতি আছে।
সিলেটের একটি বড় সমস্যা হলো-কর্মসংস্থান সঙ্কট। নির্বাচিত হলে সেটি সমাধানের জন্য আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কল-কারখানা স্থাপন, শিল্পায়ন, শ্রম ও কুটির শিল্প স্থাপনের ব্যবস্থা করবো, যাতে শিক্ষিত ও অল্পশিক্ষিত নারী ও পুরুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আইটি সংশ্লিষ্ট পেশায় ব্যাপকভাবে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের সম্পৃক্ত করা। আমরা আমাদের তরুণদের আধুনিক কৃষিতে এবং যাদের বাসা-বাড়ির সামনে জায়গা আছে তাদেরকে মৎস্য, উদ্ভিদ সমন্বিত চাষে উপকরণ, ট্রেনিং এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে কৃষিতে সম্পৃক্ত করবো।
এ তিনটি উদ্যোগ অল্প সময়ে সিলেটে কর্মসংস্থান সমস্যার সমাধান করবে। এতে সিলেটের তরুণদের ব্যাপকভাবে দেশের বাইরে যাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করবে। কারণ, তারা এই দেশের মধ্যে বেঁচে থাকার কারণ ও স্বার্থকতা খুঁজে পাবে।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আমি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে পারেন সে ব্যবস্থা করেন। আমার নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে যথেষ্ট সচেতন।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির: দলের অবস্থানই আমার অবস্থান।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির: সিলেট হচ্ছে পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটা জায়গা। একটি হচ্ছে ধর্মীয় পর্যটন এবং অপরটি হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। আমরা পর্যটন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব, যাতে দেশি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের এখানে আকৃষ্ট করতে পারি।
সিলেটকে প্রধানতম রপ্তানিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ করবো। এই ক্ষেত্রে যে সব সমস্যা আছে সেগুলো সমাধান করে লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাব।
সিলেট সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে একটি করে খেলার মাঠ তৈরি করে আমরা সিলেট শহরকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সারাদেশে উপস্থাপন করবো।
সিলেটের উন্নয়ন এবং জাতীয়ভাবে বিএনপি তার ইশতেহার প্রকাশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন আমরা ভোটের মাধ্যমে দেখানোর প্রত্যাশা করছি।
সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দুই প্রার্থীই প্রতিদিন শহর-গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন, গণসংযোগ, পথসভা করছেন এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে নানা পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন।