বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৯

জেলাকে শিক্ষাশহরে পরিণত করতে চাই : ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন

মো. দেলোয়ার হোসেন। ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁও, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন অবহেলিত জেলার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন জামায়াত প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ঠাকুরগাঁও জেলা সংবাদদাতা জাকির মোস্তাফিজ মিলু।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

মো. দেলোয়ার হোসেন : আপনারা জানেন, ঠাকুরগাঁও দীর্ঘদিন ধরে একটা অবহেলিত জেলায় পরিণত হয়েছে। এখান থেকে অনেকে এমপি, অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে তাঁরা যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেননি। ফলে উন্নয়ন বলতে যা বোঝায় সে ধরনের কিছুই এখানে নেই। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে ইনশাআল্লাহ সর্বপ্রথম দেশের মানচিত্রে ঠাকুরগাঁওয়ের মাথা উঁচু করে ধরবো। এ জেলাকে শিক্ষাশহরে পরিণত করতে চাই। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষি কলেজ নিয়ে আসবো।

এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ। ৬০ বছর ঊর্ধ্ব এবং ৫ বছরের নিচের সব নাগরিকের চিকিৎসা ব্যয় আমরা ফ্রি করে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

এ জেলায় বেকারত্ব একটা বিরাট সমস্যা। হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা এখানে বেকার। আমরা ঠাকুরগাঁওকে একটা বেকারত্বমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করবো এবং সকল যুবক যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ। 

ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা ঠাকুরগাঁওকে একটা রপ্তানিমুখী অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এখানকার অর্থনীতিকে সচল এবং প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। দীর্ঘদিন ধরে  বন্ধ থাকা বিমানবন্দরকে আমরা চালু করার ব্যবস্থা করবো। একটা সুগার মিল ছাড়া এ জেলায় বড় কোনো শিল্প কারখানা নেই। তাই আমার পরিকল্পনা এ জেলায় বড় বড় শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া যাতে করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

মাদক, চাঁদাবাজি এ জেলায় একটা বড় সমস্যা। আমরা ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করতে বদ্ধপরিকর। জেলায় সবাইকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

মো. দেলোয়ার হোসেন : আমরা সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নির্বাচনী আচরণবিধি টু দ্যা পয়েন্টে ফলো করতে আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের যে আইন তা পালন না করে নিজেদের আইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে দেখতে চাই না।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

মো. দেলোয়ার হোসেন : জুলাই সনদ আমাদের আবেগের জায়গা। আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে গণভোট সেখানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। কারণ ১৪ শত মানুষের জীবন গেছে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের জন্য। আমরা পরিবর্তন চাই। 

আমরা পরিবর্তন চাই সেই ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি, নষ্ট রাজনীতির যে রাজনীতির মধ্যে শুধু হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি, প্রতিহিংসা, দুর্নীতি এবং লাশ আর লাশ। আমরা এই ধরনের রাজনীতি আর দেখতে চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই। এই পরিবর্তন যদি আনতে হয় তবে দেশের সংষ্কার প্রয়োজন। এই সংস্কারের জন্যই গণভোট। আমরা গণভোটের (হ্যাঁ) পক্ষে, জনসাধারণও গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেবে ইনশাআল্লাহ।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মো. দেলোয়ার হোসেন : জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিতরা আমাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, নির্বাচনটা সুন্দর হবে,অবাধ হবে, নিরপেক্ষ হবে, গ্রহণযোগ্য হবে, সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। 

আমরা তাদের এই আশ্বাসকে পজিটিভলি নিচ্ছি। আমাদের প্রত্যাশা একটি অবাধ,ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারা সেই পরিবেশ সৃষ্টি করবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হবে।

সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি। এতে ২২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন।

আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৩ জন। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর মো. দেলোয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা)।