শিরোনাম

নেত্রকোণা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): নেত্রকোণা জেলা পাঁচটি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। পাঁচটি আসনের মধ্যে সংসদীয় ১৫৭ নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অবহেলিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাগ্যবদল ও পর্যটন বিকাশের অঙ্গীকার করেছেন।
এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে সাথে নিয়ে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসাথে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসব) কে এক সাক্ষাৎকারে এসব ভাবনার কথা জানান।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্যময় এ আসনে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতোভাবে যুক্ত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক এ ছাত্র পতিত স্বৈরাচারী শাসনামলে নিজ দলের নেতাকর্মীদের আইনি সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করে এসেছেন। ইতিমধ্যে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা দুর্গাপুর-কলমাকান্দা পাহাড়ি জনপদে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, দৃষ্টিনন্দন কাঠের সেতু নির্মাণ, বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও অসহায় মানুষের ঘর উপহারসহ নানান কল্যাণমূলক কাজ করে জনসাধারণের কষ্ট লাঘবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের নেত্রকোণা জেলা সংবাদদাতা মো. তানভীর হায়াত খান।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল: আমরা একটা মানবিক কলমাকান্দা-দুর্গাপুর গড়ে তুলবো, যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে যেন সুন্দরভাবে, সহমর্মিতার সাথে এবং বৈষম্যহীনভাবে বসবাস করতে পারে। আমাদের এ আসনে মুসলমান ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি হিন্দু, গারো, হাজং ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মলম্বীদের সবাইকে সাথে নিয়ে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসাথে কাজ করবো।
অবহেলিত এ পাহাড়ি জনপদের যেন সার্বিক একটা উন্নয়ন করতে পারি, সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দুর্গাপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে আসা, পর্যটন নগরী গড়ে তোলা, পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য সুপেয় পানির বন্দোবস্ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ সবকিছু মিলিয়ে আমার চেষ্টা থাকবে সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল: নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা প্রায় শেষের পথে। শুরু থেকেই আচরণবিধি মেনে চলে এসেছে আমার নেতাকর্মীরা। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককেই নির্বাচন কমিশনের যে আচরণবিধি আছে, তা আমি ছোট লিফলেট আকারে দিয়েছি। আমি আমার নেতাকর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছি। কেউ যদি আচরণবিধি অমান্য করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে কতৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
কায়সার কামাল: গণভোট নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান নেই, আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরাই সর্বপ্রথম দেশে সংস্কার প্রথাটা চালু করি, সেই স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই গণভোটের যে বিষয়গুলো আসছে এর ৮০ শতাংশই হচ্ছে বিএনপির প্রস্তাব যেমন-এক ব্যক্তি দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, সংসদের উচ্চ-কক্ষ থাকবে এমন নানাবিধ বিষয় কিন্তু আমাদের প্রস্তাব। অতএব গণভোটে আমরা ‘হ্যাঁ’ভোটের পক্ষে।
বাসস: আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
কায়সার কামাল: আমার প্রত্যাশা মানুষ যেন সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে, নিরপেক্ষভাবে তারা যেন কেন্দ্রের ভিতরে যেতে পারেন। সর্বোপরি যারা ভোটটা কনডাক্ট করবেন যেমন- প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, এসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসাররা যেন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন এবং উনারা যেন একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে দেন, যাতে সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে এবং তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।
নেত্রকোণা জেলা পাঁচটি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। পাঁচটি আসনের মধ্যে সংসদীয় আসন ১৫৭ নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) পাহাড়, নদী, সীমান্ত ও সমতল ভূমির মিশ্রণে এআসনটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধর্ম, জাতিও গোষ্ঠীর বসবাস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্যময় এ সংসদীয় আসনে নির্বচনী ভোটের মাঠে লড়ছেন মোট ছয়টি দলের ছয়জন প্রার্থী।
প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মো. আনোয়ার হোসেন খান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল মান্নান (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী (রিকশা), কমিউনিস্ট পার্টির মো. আলকাছ উদ্দিন মীর (কাস্তে) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. বেলাল হোসেন (তারা)প্রতীক।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-১ আসনটি ১ টি পৌরসভা, ১৫টি ইউনিয়ন, ১২৪টিভোট কেন্দ্রএবং ৮৫২ টি ভোট কক্ষ নিয়ে গঠিত।
এ আসনে মোট ৪লাখ ৫৬ হাজার ১শত ৮২জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ২লাখ ৩১ হাজার ৭ শত৫১ জন পুরুষ, ২ লাখ ২৪হাজার ৪ শত ২৭জন মহিলা এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪জন।
মোট ভোটারের সংখ্যায় এবারের নির্বাচনে এ আসনে পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৩হাজার৯১ জন, এর মধ্যে ১ হাজার৯ শত ৯১জন পুরুষ এবং ১ হাজার ১শত জন মহিলা ভোটার। জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২০ লাখ ৪৪ হাজার৭ শত ৩৬ জন।