শিরোনাম

যশোর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন তথা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, চারটি ভিত্তির ওপর ১০ দল একত্রিত হয়েছি। দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিকে সহযোগিতা করবো না, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবো এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো আপস করবো না।
মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ যশোর শহরের বিখ্যাত খড়কি পীর বাড়ির সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক শরিফ হোসেনের পুত্র। একসময় তিনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। পরে দীর্ঘসময় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসক হিসেবে পেশাজীবন কাটান। এবার জামায়াতের আহ্বানে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের যশোর সংবাদদাতা মো. সাইফুল ইসলাম।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ: ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে বড় সমস্যা তৈরি করছে। এটা নিয়ে কাজ করতে চাই। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই সরকারের সাথে কথা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা এ ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে, তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। চৌগাছায় হাসপাতাল ১৭ বছর আগে ৫০ থেকে ১০০ বেড করার বিষয়ে অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু সেটার কাজ শেষ হয়নি। এটাকে সম্পূর্ণ করতে হবে। এটা করতে পারলে শুধু চৌগাছা না, ঝিকরগাছার মানুষও উপকৃত হবেন। এছাড়া যে চারটা ভিত্তির ওপর ১০ দল একত্রিত হয়েছি, দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিকে সহযোগিতা করবো না, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবো, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো আপস করবো না। এই চারটা জিনিস বাস্তবায়ন করতে পারলে অনেকে অর্থ বেঁচে যাবে, যেটা দিয়ে এলাকার উন্নয়ন করবো।
বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ : আমি নেতা-কর্মীদের নির্বাচনি বিধিমালা শতভাগ মেনে চলার জন্য বলেছি। এ ব্যাপারে আমরা কোনো ছাড় দিচ্ছি না। আমাদের ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন। কর্মীদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ আছে। যেটা অন্য সংগঠনগুলোর নেই।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ : আমরা যে চারটা বিষয়ের উপর জোট করেছি, তার তিন নম্বরেই আছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। আর তারই একটি অংশ গণভোট। এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। এবং আশাবাদী ইনশাল্লাহ ‘হ্যাঁ’ কে বিজয়ী করে নিয়ে আসবো।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ: ১৭ বছর তো এদেশে বলতে গেলে নির্বাচন হয়নি। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবেই চাই অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। এ ব্যাপারে আমাদের বন্ধুরা অনেকেই মনে হয় বাঁধার সৃষ্টি করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ ব্যাপারে চেষ্টা করছেন। যদি তাদের রিসোর্স সংকট থাকে, তাহলে আলোচনা করে অন্য যে-সব সংস্থা আছে তাদের সহযোগিতা নিতে হবে।
যশোরের ভারত সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলা ঝিকরগাছা ও চৌগাছা। এ দুটি উপজেলা নিয়ে যশোর-২ আসন গঠিত। এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মো. ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির রিপন মাহমুদ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)-এর মো. শামছুল হক এবং স্বতন্ত্র মো. মেহেদী হাসান।
যশোর-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন ভোটার রয়েছেন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য ৭ হাজার ৩১৩ জন ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছেন। ২২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৫টি।