শিরোনাম

যশোর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোছা. সাবিরা সুলতানা এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও নারী স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে কাজ করবো। সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা যশোর জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক নাজমুল ইসলামের স্ত্রী। নাজমুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম ও হত্যার শিকার হন। সে কারণে সাবিরা সুলতানার প্রতি দল ও এলাকার মানুষের বরাবরই একধরনের সিমপ্যাথি রয়েছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের ভোট কাটাকাটির সময়েও সাবিরা সুলতানা ঝিকরগাছা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের যশোর জেলা সংবাদদাতা মো. সাইফুল ইসলাম।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
সাবিরা সুলতানা : দীর্ঘদিন যাবৎ চৌগাছা উপজেলায় রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট ঠিক করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি, বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও নারী স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে কাজ করবো। এলাকার মসজিদ ও মন্দিরগুলোতে অনুন্নয়নের ছাপ। নির্বাচিত হলে এই খাতের উন্নতিতেও আমি ভূমিকা রাখবো। আমি একজন নারী প্রার্থী। তাই নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এছাড়া এলাকা থেকে মাদক ও সন্ত্রাসকে নির্মূল করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমার ভূমিকা থাকবে জিরো টলারেন্স।
বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
সাবিরা সুলতানা : ব্যক্তিগতভাবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আচরণবিধিতে যা আছে তার কোনোরকম ব্যত্যয় আমার পক্ষ থেকে হবে না। এ ব্যাপারে আমার নেতা-কর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া আছে, তারাও যেন এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকেন।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
সাবিরা সুলতানা : যেহেতু আমি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, তাই এ ব্যাপারে বিএনপির যে সিদ্ধান্ত, সেটাই আমার সিদ্ধান্ত।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
সাবিরা সুলতানা : সব দলের অংশগ্রহণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্ব হবে না। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট হবে, এটাই আমরা প্রত্যাশা।
যশোরের ভারত সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলা ঝিকরগাছা ও চৌগাছা। এ দুটি উপজেলা নিয়ে যশোর-২ আসন গঠিত। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনে। যশোর-২ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মো. ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির রিপন মাহমুদ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)-এর মো. শামছুল হক এবং স্বতন্ত্র মো. মেহেদী হাসান
যশোর-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন ভোটার রয়েছেন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য ৭ হাজার ৩১৩ জন ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছেন। ২২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৫টি।