শিরোনাম

বরগুনা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ডা. সুলতান আহমেদ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নদী ভাঙ্গনসহ এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং নারী পুরুষের কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেবেন বলে জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
বরগুনা-২ (বামনা পাথরঘাটা বেতাগী) আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ডাক্তার সুলতান আহমদ। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বরগুনা জেলার নায়েবে আমীর (সহ-সভাপতি) ছিলেন। তিনি গত ১৬ বছরে চারবার রাজনৈতিক মামলায় জেলে ছিলেন।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বরগুনা জেলা সংবাদদাতা মো. হাফিজুর রহমান।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
সুলতান আহমদ: এ নির্বাচনটি মূলত অনন্য নির্বাচন হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও সর্বদলীয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশবাসী ও বিশ্ববাসী সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা করছেন। জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সমাজ গঠনের। আমি নিজের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি শীল, আমি সততা নিয়ে থাকবো। জনগণের ন্যায্য দাবি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নদী ভাঙ্গনরোধসহ জেলেদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
সুলতান আহমদ: আমরা শান্তিবাদী দল এবং শান্তির পক্ষেই থাকি। আমার কর্মী সমর্থকদের প্রতি আমার আহ্বান রয়েছে, প্রতিযোগিতার নামে তারা যেন কোন প্রকার প্রতিহিংসা না করে। নির্বাচনী আইন মেনে আমার কর্মীরা কাজ করছে।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
সুলতান আহমদ: জুলাই বিপ্লবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। আগামী নির্বাচনে আমরা অবশ্যই সংস্কারের পক্ষে তাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোট দিতে হবে।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?
সুলতান আহমদ: সারাদেশে এবার একটি জাগরণ উঠেছে পরিবর্তনের। এই আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত থেকে প্রার্থী হয়েছিলাম, তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলাম বৃহত্তর স্বার্থে খন্দকার মাহবুব হোসেনের জন্য কিন্তু তিনিও নির্বাচিত হতে পারেননি। এবার ব্যতিক্রম, ইনশাআল্লাহ এবার আমি বিজয়ী হবো।
জেলার পাথরঘাটা-বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন গঠিত। ২০০৮ সালের আগে বেতাগী উপজেলা বরগুনা-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন। ২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সীমানা পুন:নির্ধারণের পর বেতাগী উপজেলাকে বরগুনা-২ আসনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। ৩ টি উপজেলা ২ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটি। সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ উপকূলীয় জেলা বরগুনার তিনদিকেই রয়েছে নদী। কোন উপজেলায় যেতে হলে একমাত্র নদী পথেই যেতে হবে, শুধুমাত্র বেতাগী উপজেলা ছাড়া।
বরগুনা-২ আসনে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা- ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৪ জন। পুরুষ ভোটার -১ লাখ ৬৬ হাজার ৩০৪ জন, নারী ভোটার -১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র -১২২ টি। তিনটি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনটি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম মণি, (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ডাক্তার সুলতান আহমেদ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী (পাখা), জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুল লতিফ ফরাজী (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি (এনপিপি) থেকে মো. সোলায়মান (আম), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কামরুজ্জামান লিটন (কাঁঠাল), বাংলাদেশ কংগ্রেস সাব্বির আহমেদ (ডাব), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ (সিংহ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ রাশেদ উদজামান জাহাজ (জাহাজ)।