বাসস
  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩১
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৫

ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি ঢাকা-৫ জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেনের

কামাল হোসেন। ফাইল ছবি

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবেন। 

তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সামনে রেখেই নির্বাচনী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামাল হোসেন এই প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৫ এলাকার মানুষের প্রধান সংকট তিনটি। আর তা হলো- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান। এই তিন খাতকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

শিক্ষা খাতের কথা বলতে গিয়ে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ আসনে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘাটতি রয়েছে। তার দাবি, এখানে একটি সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করাই তার প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবার চিত্র তুলে ধরে কামাল হোসেন বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত চিকিৎসা সেবার বাইরে রয়েছে। তার পরিকল্পনায় রয়েছে ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান- লতিফ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এই দুটি মিল পুনরায় চালু করা গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে যুবকদের জন্য। একই সঙ্গে যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন তিনি।

নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। যাত্রাবাড়ীর বড় ময়লা ডাম্পিং স্টেশন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের কোনো জায়গা থাকবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবে কঠোর অবস্থান। তাঁর ভাষায়, তিনি নিজে দুর্নীতিতে জড়াবেন না এবং দুর্নীতির কোনো ছায়াকেও আশপাশে আসতে দেবেন না। এলাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, তিনি শুধু ব্যক্তি হিসেবে নন, তার দল জামায়াতে ইসলামীও সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার মতে, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মূল দায়িত্বই হলো আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ তদারকি এবং বাজেট প্রণয়ন, আর সেই জায়গা থেকেই আইন মানা অত্যন্ত জরুরি। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাস্তবে সমান মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না।’ তবে দলীয় কর্মীদের আইন মেনেই প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, বিষয়টি আদতে নির্বাচনী আলোচনার অংশ হওয়ার কথা ছিল না। সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি গণভোটে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর বিশ্বাস- ৯০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেবে। তাঁর ভাষায়, ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘হ্যাঁ’ মানে জুলাই বিপ্লব, ‘হ্যাঁ’ মানে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও একটি মুক্ত বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ এর পক্ষেই থাকবে বলে তিনি মনে করেন। 

নিজের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামাল হোসেন বলেন, তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। জুলাই শহিদদের যে আকাঙ্ক্ষার একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ- সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই তাঁর অঙ্গীকার।

 নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে তিনি ভালো সাড়া পাচ্ছেন।’ 

নিজের রাজনৈতিক জীবনের আন্দোলন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে কামাল হোসেন বলেন, তিনি ৯ বার কারাবরণ করেছেন এবং মোট ৮৫৩ দিন কারাগারে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তিনি ও তাঁর কর্মীরা সবাই নির্যাতনের শিকার। এখন তাঁরা ন্যায়ের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়িয়ে লড়ছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলেও প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ঢাকা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৫৪১ জন ভোটার। এই আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০টি।

ইসি আরও জানায়, এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ছাড়াও বিএনপির মো. নবী উল্লা (ধানের শীষ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা), বাংলাদেশ লেবার পার্টি’র মো. গোলাম আজম (আনারস), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-এর মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি), বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর মো. সাইফুল আলম (ডাব), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র মো. হুমায়ুন কবির (ছাতা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক) প্রার্থী রয়েছেন।