বাসস
  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৭

কর্মসংস্থান ও নদী ভাঙন রোধসহ এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপি প্রার্থী নূরুল ইসলামের

নূরুল ইসলাম মণি। ফাইল ছবি

বরগুনা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বরগুনা ২ আসনের বিএনপি প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি নূরুল ইসলাম মণি কর্মসংস্থান ও নদী ভাঙ্গন রোধসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি নূরুল ইসলাম মণি এ আসনে তিনবার সংদস সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে এবং ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

২০২৪ এ ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেলে পাল্টে যায় এলাকার চালচিত্র। বর্তমানে মাঠবিহীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় দাপিয়ে বেরোচ্ছে বিএনপি, জামাতসহ অন্যান্য দলগুলোর প্রার্থীরা। 

এসব প্রতিশ্রুতির আলোকে বিএনপির হেভি ওয়েট প্রার্থী নূরুল ইসলাম মণির স্বাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর বরগুনা জেলা সংবাদদাতা মো. হাফিজুর রহমান।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
নূরুল ইসলাম মণি: প্রথমত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হচ্ছে আমাদের ইশতেহার তৈরি করা হবে জাতীয়ভাবে। আমার নির্বাচনী এলাকা হলো বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা এ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ২ আসন। প্রতিশ্রুতি বলতে এখানকার সার্বিক উন্নয়ন করা, নদী ভাঙ্গন রোধ, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মেহনতি মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

নূরুল ইসলাম মণি: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া আছে। আমাদের নেতাকর্মীরা যথেষ্ট নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে সচেষ্ট আছেন।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয় গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

নূরুল ইসলাম মণি: জুলাই যুদ্ধটা এদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীন হয়েছি। স্বাধীন হওয়ার পরে ফ্যাসিবাদ দ্বারা এটি ভুলন্ঠিত হয়েছে এবং ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল, সেখানে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের জুলাই যোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন এবং অনেক মানুষ আহত হয়েছে। তাই আমাদের দল সেটাকে খুব সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করে। 

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?

নূরুল ইসলাম মণি: প্রথম প্রত্যাশা হল আমি এইখানে পাস করলে ধানের শীষ পাস করবে। দ্বিতীয় প্রত্যাশা হল দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তৃতীয় প্রত্যাশা আমাদের দলের ৩১ দফা রয়েছে। আমরা ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষকদের কৃষি কার্ডসহ এ জাতীয় অনেক কার্ড রয়েছে এগুলো দেওয়ার প্রত্যাশা।

জেলার পাথরঘাটা-বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন গঠিত। ২০০৮ সালের আগে বেতাগী উপজেলা বরগুনা-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন। ২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সীমানা পুন:নির্ধারণের পর বেতাগী উপজেলাকে বরগুনা-২ আসনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। ৩ টি উপজেলা ২ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটি। সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ উপকূলীয় জেলা বরগুনার তিনদিকেই রয়েছে নদী। কোন উপজেলায় যেতে হলে একমাত্র নদী পথেই যেতে হবে, শুধুমাত্র বেতাগী উপজেলা ছাড়া। 

এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ডা. সুলতান আহমেদ ( দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী (হাতপাখা), জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুল লতিফ ফরাজি (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাব্বির আহমেদ (ডাব) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রাশেদ উজ্জামান।

বরগুনা-২ আসনে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৪ জন। পুরুষ ভোটার-১ লাখ ৬৬ হাজার ৩০৪ জন, নারী ভোটার-১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৬ জন। মোট ভোট কেন্দ্র -১২২ টি। 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন মণি। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তার এলাকায় রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ওই সময়ে তার এলাকায় মৎস্য, কৃষি, রাস্তাঘাট কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্রীজ, কালভার্ট ও অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তিনি।