শিরোনাম

জয়পুরহাট, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল বারী বলেছেন, নির্বাচিত হলে মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে দিন পার করতে পারে সে ব্যবস্থা করবো।
সাবেক সচিব ও ঢাকার ডিসি আব্দুল বারী জেলার উন্নয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। নির্বাচিত হলে তিনি জয়পুরহাট-২ আসনকে বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নির্বাচনের নানা বিষয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জয়পুরহাট জেলা সংবাদদাতা মাসুদ রানা।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
আব্দুল বারী : আসনের জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করবো। এই এলাকা যেহেতু কৃষি প্রধান এলাকা তাই আমরা সকলকে কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করবো। মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে দিন পার করতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা করবো। এলাকার কৃষকদের সুবিধার্থে কৃষি উপকরণের দাম কমিয়ে দিয়ে কৃষক বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবো। কৃষকরা যেন কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পায় সেদিকে খেয়াল রাখবো। কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কর্মসংস্থানের উপর জোর দেব।
এছাড়া কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের আয় বাড়ানো আমার প্রধান উদ্দেশ্য। যারা দেশের বাইরে যাবে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাইরে পাঠানো উদ্দেশ্য। সংবিধান অনুযায়ী অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষা এই পাঁচটি বিষয় সকলের জন্য নিশ্চিত করা যায় সেদিকে কাজ করবো। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গুণগতমান সম্পন্ন শিক্ষা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাব। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, দখল ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। জয়পুরহাটে মেডিকেল কলেজ ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা সম্ভব।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
আব্দুল বারী : আমরা নির্বাচনে আচরণবিধি পালনে চেষ্টা করছি। আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় এমন কোনো কাজ আমি ও আমার কর্মীরা করিনি। আমি ও আমার দলের সকল নেতা-কর্মীরা আচরণবিধি মেনে চলবে সে ধরনের নির্দেশনা দিয়েছি। আমি আমার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে সকলকে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছি।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
আব্দুল বারী : গণভোট নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনো মতামত নেই। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। আগামীতে দলের পক্ষ থেকে গণভোটের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি নিয়েই কাজ করবো।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আব্দুল বারী : দেশে দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট প্রদানের সময় এসেছে। আমরা সকল ক্ষেত্রে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে দলের হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ তারা যেন সকল ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন। মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে ও অবাধে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসন যেন সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জয়পুরহাট জেলা ৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ জেলায় ২টি সংসদীয় আসন আছে। জয়পুরহাট সদর উপজেলা ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন-৩৪ বা জয়পুরহাট-১ আসন। অপরদিকে কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন-৩৫ বা জয়পুরহাট-২ আসন।
জয়পুরহাট-২ আসনটি ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ১০৪টি ভোটকেন্দ্র। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৭৭ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৩ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ প্রার্থী। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রার্থী সাবেক সচিব ও ঢাকার ডিসি আব্দুল বারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এস এম রাশেদুল আলম ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) এস এ জাহিদ।