বাসস
  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮

ইনসাফভিত্তিক শাসন কায়েমই আমাদের লক্ষ্য: কুমিল্লা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী দ্বীন মোহাম্মদ

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। ছবি : বাসস

কুমিল্লা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক শাসন কায়েমের অঙ্গীকার করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি  বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নিরাপদ, কল্যাণমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। তিনি ১৯৫৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা সংবাদদাতা দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কি? 

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ : নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আমরা ভোটারদের চাহিদাগুলো জানার চেষ্টা করছি। 

জনগণ একটি সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ চায়। যেখানে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও নারীরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। সে লক্ষ্যেই ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাই।

আমরা মনে করি, ইনসাফের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কারও প্রতি অবিচার হবে না। আমরা একটি কল্যাণমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে চাই। জনগণের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সে আমানতের কোনোভাবেই খেয়ানত করা হবে না।

মহানগরসহ আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট কমানোসহ দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়াও কুমিল্লাবাসীর দুঃখ হিসেবে পরিচিত গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে প্রতিবছর মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের সুরক্ষায় আধুনিক, মজবুত ও উঁচু বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। বন্যা থেকে কুমিল্লাবাসীকে রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সবই করা হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গোমতী নদী ও লালমাই পাহাড়কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বাসস : নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী? 

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ : আমরা আদর্শিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। তফসিল ঘোষণার পরপরই নিজ হাতে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে এবং নেতাকর্মীদের আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। আমার দলের কর্মীরা শতভাগ আচরণবিধি মেনে চলবে।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ : নির্বাচনি প্রচারণায় আমরা জনগণের কাছে দুটি ভোটের আবেদন জানাচ্ছি। একটি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, অপরটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে এক ব্যক্তি পরপর দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে না পারার বিধান জনগণের জন্য কল্যাণকর।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?     

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা হলো, প্রশাসন যেন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে। জাতিকে যেন একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়। এর মাধ্যমে দেশ একটি বড় সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই আসনের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)র ওবায়দুল কবির মোহন (তারা মার্কা), ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ (হাতপাখা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মো. মনিরুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)-এর মো. আমির হোসেন ফরায়েজী (ছড়ি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কামরুন্নাহার সাথী (মই)। কুমিল্লার হৃৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৬ জন।