শিরোনাম

চাঁদপুর, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : চাঁদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজন নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি। তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কুটির শিল্প নির্মাণ ও গার্মেন্টস শিল্প স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হলে এলাকায় বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি নারীরাও কাজের সুযোগ পাবে। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হলে সমাজে ভারসাম্য সৃষ্টি হবে। নারীরা তাদের প্রকৃত মর্যাদা পাবে।
চাঁদপুর -৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান। তিনি একটানা ত্রিশ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। এলাকায় একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বাসসের চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
আব্দুল হান্নান : আমি নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে থেকেই এই এলাকার জনগণের জন্য নিজ অর্থায়নে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এবার আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে ফরিদগঞ্জকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।
নির্বাচিত হলে নিজের এবং সরকারি অর্থ দিয়ে জনগণের উন্নয়নের চেষ্টা করবো। ফরিদগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করে এলাকাবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবো। মানুষ যাতে নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে নিজের বাড়িতে ঘুমাতে পারে সেই ব্যবস্থা করবো।
আমরা মানুষ হয়ে জন্মেছি। আমাদের ক্রোধ আছে। ক্রোধবশত: এলাকায় যেসব মারামারি কাটাকাটি হয় সেটা কমাবার চেষ্টা করবো। মানুষকে যাতে থানায় যেতে না হয় সেজন্য কমিউনিটি বিচার ব্যবস্থা চালু করবো।
চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে এসব অভিযোগের সমাধানের চেষ্টা করব। আর যদি থানায় যেতে হয়, যদি ওয়ারেন্ট হয়, সে ওয়ারেন্ট কপি নিয়ে রাত্রে যেন মা-বাবা স্ত্রী সন্তানের সামনে থেকে পুলিশ তুলে না নেয় এই ব্যবস্থা করবো। ওয়ারেন্ট হলে ওয়ারেন্ট কপি পৌঁছে দেবে। সে ওয়ারেন্ট কপি নিয়ে মানুষ কোর্টে গিয়ে সারেন্ডার করবে, জামিনযোগ্য হলে জামিন পাবে, না হলে কারাগারে যাবে। অর্থাৎ ফরিদগঞ্জকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গঠনের আমি চেষ্টা করবো।
এলাকায় কুটির শিল্প স্থাপন করে আমি নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। ফরিদগঞ্জে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। আর সেটা করা গেলে উপজেলায় শিল্প-কারখানা গড়ে তুলবো। এতে এলাকার বেকার সমস্যার সমাধান হবে।
বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
আব্দুল হান্নান : নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী আমরা সরকারকে হেল্প করব এবং রিটার্নিং অফিসারকে হেল্প করব। নির্বাচন কমিশনকে হেল্প করবো। কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করে, আমি আমার নেতাকর্মীকে বলেছি তাদের যেন কোন প্রতি উত্তর না দেয়। যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমি সরকারি সংস্থাকে অনুরোধ করছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?
আব্দুল হান্নান: বর্তমান প্রজন্ম মেধাবী এবং তাদের বুদ্ধি আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তারা যেই সিদ্ধান্ত নেয় সেই সিদ্ধান্তের সাথে আমি একমত।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?
আব্দুল হান্নান : বাংলাদেশের জনগণ তিনটি নির্বাচনে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারে নাই। এই নির্বাচনে যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং ভোট দিতে পারে এটাই আমি সার্বিকভাবে প্রত্যাশা করি। ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর ৪ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্যরা হলেন; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ, গণফোরামের মো. মুনীর চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. আব্দুল মালেক, স্বতন্ত্র মো. আবদুল হান্নান, জাতীয় পার্টির মাহমুদ আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. বিলাল হোসেন মিয়াজী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মকবুল হোসাইন।
এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ২৬৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১১৮।
মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭৩৭ টি।