বাসস
  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:০১
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৩

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী 

সেলিম মাহমুদ- ছবি : বাসস

নারায়ণগঞ্জ, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর) আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চান। 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সাধারণ মানুষের কথা বলার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ‘গডফাদার’ সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মেহনতি মানুষ এবং শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে সংসদে যাওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন এই প্রার্থী।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী সেলিম মাহমুদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা নুসরাত সুপ্তি।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

সেলিম মাহমুদ : মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা রয়েছে, সেই চেতনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। এ দেশের জনগণের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করবো। আমরা সমতা ও সাম্যের সমাজ চাই, যে সমাজে বৈষম্য থাকবে না। যে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন হয়েছিল, সে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের লক্ষ্য।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

সেলিম মাহমুদ : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে সরকারি নির্দেশনার বাইরে আমরা ব্যতিক্রম কিছু করবো না। আমি আমার নেতাকর্মীদের সম্পূর্ন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি। নিদের্শনা অনুয়ায়ী আমরা কাজ করার চেষ্টা করবো।
বাসস- জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

সেলিম মাহমুদ : আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলেছি, প্রথমে একটা নির্বাচন করা দরকার। পরে নির্বাচিত সরকার এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভালো।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

সেলিম মাহমুদ : বিগত নির্বাচনগুলোতে জনগণ ভোট দিয়েও প্রতারিত হয়েছে। এবার একটি লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা দরকার। যেখানে সকল পক্ষ ও প্রতিযোগীদের জন্য সমান সুযোগ এবং অভিন্ন নিয়ম কার্যকর থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যেন মানুষ তাদের পছন্দ মতো ভোট দিতে পারে এবং ভোটে যেন কোনো টাকার খেলা এবং পেশি শক্তি ও সাম্প্রদায়িক শক্তির ব্যবহার না হয়। এই বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী ছাড়াও এই আসনে ১৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এ তালিকায় আছেন বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী, জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্র্র্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। 

এছাড়া রয়েছেন স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছালাউদ্দিন খোকা মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফ ভূঁইয়া, সিপিবি প্রার্থী ইকবাল হোসেন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী সেলিম আহমেদ।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন- ফতুল্লা, কুতুবপুর, বক্তাবলী, কাশীপুর, এনায়েতনগর, গোগনগর ও আলীরটেক নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনটি গঠিত হয়েছে। 

এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ১৭ জন ও নারী ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়া ৬ জন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। এ আসনে মোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭৭টি।