বাসস
  ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৬

ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বলিভিয়ার সড়কে ফের কৃষকরা

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): বলিভিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর কোচাবাম্বায় শুক্রবার কয়েকশ কোকা চাষি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকরা বিক্ষোভ করেছেন। 

সরকারের ডিজেলের দাম দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে তারা এ বিক্ষোভ করেন বলে এএফপির প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন।

বলিভিয়ার কোচাবাম্বা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

জুনে কেন্দ্র-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজ জরুরি অবস্থা জারি করেন। কয়েক সপ্তাহের ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তিনি এ জরুরি অবস্থা জারি করেন। এর মধ্যেই শুক্রবারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।

বেশিরভাগই আদিবাসী বিক্ষোভকারীরা পাজের জারি করা একটি ডিক্রি বাতিলের দাবি জানান। ওই ডিক্রির আওতায় কৃষকসহ বেশি পরিমাণে ডিজেল কেনা ভোক্তাদের জন্য প্রতি লিটারের দাম ৮০ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ১ ডলার ৫০ সেন্ট করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, অন্যান্য দেশে জ্বালানি পাচার বন্ধ করতে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এই পাচারের কারণে বলিভিয়ায় জ্বালানির সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

এক বিক্ষোভকারী দড়ি দিয়ে একটি ট্রাক্টর টানতে টানতে চিৎকার করে বলেন, ‘ডিজেল নেই, ডিজেল নেই!’

৪০ বছর বয়সী কৃষক এলেনা আইনে বলেন, দাম বাড়ানোর কারণে ‘সবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’

জরুরি অবস্থার আওতায় এ ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেনি।

বুধবার সরকার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সহায়তার ঘোষণা দেয়। 

বলা হয়, তারা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি আগের দামেই কিনতে পারবেন। অর্থাৎ প্রতি লিটার ৮০ সেন্ট দামে।

তবে সরকারের এ ছাড়েও বিক্ষোভকারীরা সন্তুষ্ট হননি।

গত বছর আন্দিজ অঞ্চলের দেশ বলিভিয়ায় চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ক্ষমতায় আসেন পাজ। দেশটিতে তখন জ্বালানি ও ডলারের তীব্র সংকট চলছিল।

ক্ষমতায় এসে তার নেওয়া প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল বিদায়ী সমাজতান্ত্রিক সরকারের চালু করা জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করা। এই ভর্তুকির কারণে বলিভিয়ার মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে।

তবে দেশটির কিছু এলাকায় পেট্রল পাম্পে জ্বালানির জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি এখনও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।

বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট মোরালেস ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দেন। তিনি পাজের অন্যতম কট্টর সমালোচক।

মোরালেস শুক্রবার রেড আমেরিকা টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে বলেন, ‘এই সরকারের ভবিষ্যৎ খুব বেশি দিন নেই। রাজনীতিবিদ হিসেবে রড্রিগো পাজের ভবিষ্যৎ আরও কম।’