বাসস
  ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৬

ফকল্যান্ডের আশপাশে তেল প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি আর্জেন্টিনার

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে অনুমোদন ছাড়া তেল ও গ্যাসের কাজে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা।

দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বলেছেন, ফকল্যান্ডসের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে এখন ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটেনের একটি বিদেশি ভূখণ্ড। আর্জেন্টাইনরা এটিকে ‘লাস মালভিনাস’ নামে অভিহিত করে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ হয়েছিল।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের দপ্তর শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, ফকল্যান্ডের আশপাশে ‘হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত’ ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্রিটিশ, মার্কিন, কানাডীয়, ইসরাইলি, ডেনিশ ও ডাচ কোম্পানি রয়েছে।

শনিবার বিকেলে তেলক্ষেত্রের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান শ্লামবার্জার, হ্যালিবার্টন ও বেকার হিউজ পৃথক বিবৃতিতে জানায়, তারা ফকল্যান্ডের আশপাশে হাইড্রোকার্বন প্রকল্পে কাজ করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

এরপর মিলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই তিন কোম্পানির বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ শেয়ার করেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি এমন একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ ব্যবহার করেন, যার অর্থ দাঁড়ায়— ‘সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।’

ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এবং বর্তমানে ব্রিটেনের প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ শুরুর ৭৪ দিন পর আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করে। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।

বৃহস্পতিবার এক ভাষণে মিলেই আবারও ফকল্যান্ডের ওপর আর্জেন্টিনার দাবি তুলে ধরেন এবং দ্বীপপুঞ্জটির আশপাশে তেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।

মিলেই বলেন, ‘বিশ্বে পরিবর্তনের এমন হাওয়া বইছে, যা আমাদের দাবির পক্ষে অনুকূল।’

মিলেইয়ের এই বক্তব্যের আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ফকল্যান্ডস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পর্যালোচনা করছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ালে দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিরোধিতা করার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এর জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফকল্যান্ডসের প্রতি ব্রিটেনের ‘অটুট’ অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ, কারণ ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা ব্রিটিশ হিসেবে থাকতে চান।’