শিরোনাম

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বলিভিয়ার একটি সেনাঘাঁটিতে পরপর দুটি বিস্ফোরণে অন্তত দুজন নিহত ও ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ১৪ সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঘাঁটির কমান্ডার।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শুক্রবার বিকেলে দেশটির ভিয়াচা শহরের ওই সামরিক স্থাপনায় দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে বিস্ফোরক সংরক্ষণ করা হতো। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষের বসবাসের শহর ভিয়াচা রাজধানী লা পাজ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
শনিবারও বিস্ফোরণস্থলের আশপাশের সড়কে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। কাছাকাছি ভবনগুলোর জানালার কাচও ভেঙে যায়।
ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল অ্যান্টোনিও আমারু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভিয়াচা সেনাঘাঁটিতে দুটি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা ইউনিফর্ম পরিহিত ১৪ জন সদস্যের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’ নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে এক সার্জেন্ট এবং ১৩ জন বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণরত তরুণ রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ ও ১৯ বছর।
নিহত দুজনই তরুণ ছিলেন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার প্রথম বছর পালন করছিলেন।
বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
বিস্ফোরণের পর নিখোঁজ সেনাসদস্যদের স্বজনেরা সেনাঘাঁটির সামনে ভিড় করেন। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের ঢাল নিয়ে পুলিশ ঘাঁটিতে প্রবেশের পথ আটকে রাখলে স্বজনদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তৈরি হয়।
এএফপির এক প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে দেখতে পান, স্থানীয় আদিবাসী আইমারা সম্প্রদায়ের কয়েকজন মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ে সেনাসদস্যদের কাছে তাদের স্বজনদের বিষয়ে জানতে চান। কেউ কেউ জোর করে ঘাঁটির ভেতরে ঢোকার চেষ্টাও করেন।
নিখোঁজ এক স্বজনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অ্যাডলফো কোপা এএফপিকে বলেন, ‘তারা একটি পাথরও সরায়নি, একটু সিমেন্টও সরায়নি—কিছুই সরানো হয়নি। আমার ভাতিজা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আছে।’
৬৫ বছর বয়সী ইরিনেও মামানি বলেন, তিনি শুধু নিশ্চিত হতে চান তার ছেলে নিখোঁজদের তালিকায় আছেন কি না।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু চাই, তারা আমাদের জানাক কোনো নির্দিষ্ট সেনাসদস্য সেখানে আছে কি না। এটাই জানতে চাই।’
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বিস্ফোরণের তীব্রতায় বেশ কয়েকটি বাড়ির ছাদ উড়ে যায়, পাথর ছিটকে পড়ে এবং গাছ উপড়ে যায়। আশপাশের কয়েক ডজন বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এরনেস্তো জাস্টিনিয়ানো শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানান, প্রথম বিস্ফোরণে ওই স্থানে সংরক্ষিত ‘পাইরোটেকনিক সামগ্রীর জন্য ব্যবহৃত কালো বারুদ’ ছিল। তবে দ্বিতীয় ও তুলনামূলক বড় বিস্ফোরণের কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এল ডেবের পত্রিকাকে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ধাক্কায় তিনি প্রায় পাঁচ মিটার দূরে ছিটকে পড়েন। তার মুখে আঘাত লাগে এবং তিনি কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ নিহত, আহত এবং বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি ঘটনার ‘পূর্ণাঙ্গ, কারিগরি ও স্বচ্ছ’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ঘটনার কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে, নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না তা যাচাই করতে হবে এবং কোনো ব্যক্তির দায় থাকলে তা নির্ধারণ করতে হবে।
ভিয়াচা কর্তৃপক্ষ তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, তারা অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।