শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): গুরুত্বপূর্ণ কলোরাডো নদীর পানি ব্যবহারে নেভাদার অংশ কমানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে অঙ্গরাজ্যটি।
রকি পর্বতমালা থেকে উৎপত্তি হওয়া এই নদীর পানি যুক্তরাষ্ট্রের শুষ্ক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষিকাজ সম্ভব করে তুলেছে। ফিনিক্সের মতো শহরসহ ওই অঞ্চলের ৪ কোটি মানুষের খাবার পানির চাহিদাও মেটায় নদীটি।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে কয়েক দশকের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার এবং বছরের পর বছর ধরে চলা খরায় নদীটির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। নদীটির ব্যবস্থাপনা সবসময়ই এর বিদ্যমান পানির চেয়ে বেশি বরাদ্দের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে।
গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা দেয়, ‘লোয়ার-বেসিন স্টেটস’ হিসেবে পরিচিত অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদা যে পরিমাণ পানি ব্যবহার করতে পারে, তা কমানো হবে। তবে ‘আপার-বেসিন স্টেটস’ হিসেবে পরিচিত কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ইউটাহ ও ওয়াইওমিংয়ের পানির বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত তিন অঙ্গরাজ্যের সম্মিলিত বার্ষিক পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ঘনমিটার কমানো হবে। এই পরিমাণ পানি ১৫ লাখ অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান।
এখন এই পরিবর্তন ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে নেভাদা। অঙ্গরাজ্যটির কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে তাদের পানির বরাদ্দ দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে মরুভূমির শহর লাস ভেগাস ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে। শহরটির পানির ৯০ শতাংশই আসে এই নদী থেকে।
নেভাদার রিপাবলিকান গভর্নর জো লোম্বার্দো সোমবার বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক কৌশল প্রদর্শনের বিষয় নয়।’
তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার বিষয়, যারা আমাদের অঙ্গরাজ্যের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং অর্থনীতির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।’
কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, সাত অঙ্গরাজ্য নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় পানি ব্যবহার কমানোর এই পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়েছে।
তারা বলছেন, সমঝোতা না হলে নদীর ওপর নির্মিত জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বাঁধগুলো অচল হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি জেলা আদালতে দায়ের করা নেভাদার এই মামলাই শেষ আইনি পদক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সবচেয়ে বেশি কাটছাঁটের মুখে থাকা অ্যারিজোনাও নিজস্ব আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশনা এবং এর জেরে আইনি পদক্ষেপের ঘটনা ঘটল কলোরাডো নদীর পানিতে পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বৃহত্তম জলাধার লেক পাওয়েল ও লেক মিড রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে যাওয়ার পর।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির লাগামহীন ব্যবহারসহ মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এতে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরনেও পরিবর্তন ঘটছে।
এর ফলে বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা বাড়ছে। আবার অন্য কিছু অঞ্চলে আরও তীব্র ঝড় হচ্ছে।