শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ছয় মাসের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী প্রধান সংঘাতস্থলে পরিণত হয়েছে। তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, উপসাগর ও এর আশপাশের জলসীমায় মোট ৬৮টি ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন নাবিক বা বন্দরকর্মী নিহত, ৩৫ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।
ঘটনাগুলোর প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে তেলবাহী ট্যাংকারে। ২০ শতাংশ ঘটনায় কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং ১৫ শতাংশ ঘটনায় বাল্ক ক্যারিয়ার জড়িত ছিল।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ৪৭টি ঘটনাকে হামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ। এসব জাহাজে ১৩টি হামলা হয়েছে। এরপর পানামা ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ১০টি করে জাহাজে হামলা হয়েছে।
ইরানের পতাকাবাহী জাহাজে চারটি হামলা হয়েছে।
যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে এসব ঘটনার হারও কমবেশি হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জুনের মাঝামাঝি সময়ে শান্তি আলোচনা শুরুর কাঠামো নিয়ে একটি চুক্তি হওয়া পর্যন্ত গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৩ দিনে একটি ঘটনা ঘটেছে।
এই সময়ে ১৬ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হন। উপসাগরজুড়ে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে হরমুজের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল এবং ইরাক, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলও ছিল।
শান্তি আলোচনা চলার সময়, প্রায় ৭ জুলাই পর্যন্ত, ঘটনার হার অর্ধেকে নেমে আসে। তখন গড়ে প্রতি ৪ দশমিক ৬ দিনে একটি ঘটনা ঘটে।
এই সময়ে কোনো নাবিক বা অন্য কোনো কর্মী নিহত, নিখোঁজ বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এই সময়ের পাঁচটি ঘটনার মধ্যে চারটিই প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের কাছে ওমানের উপকূলের কাছে ঘটেছে। এই পথ ব্যবহারের অনুমতি ইরানি কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
যুদ্ধের পরও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আদায়ের আশা করছে ইরান। দেশটি বিকল্প এই পথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছিল।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ঘটনার হার আবার আলোচনার আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৮ দিনে একটি ঘটনা ঘটছে।
এর ফলে চারজন নাবিক বা কর্মী নিহত, ১৬ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।