বাসস
  ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৫

গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ না হলে হামলা চালানো হবে, হুমকি ইসরাইলের 

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস):  গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো অব্যাহত থাকলে গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে হামাসকে সতর্ক করেছে ইসরাইল। রোববার ইসরাইল এ হুঁশিয়ারি দেয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে হামাস।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার গাজা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় চারটি ঘুড়ি পাওয়া যায়। রোববার সেনাবাহিনী আরও একটি ঘুড়ি গুলি করে নামায়। গত কয়েক দিনে এ ধরনের প্রায় ১০টি ঘুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কয়েক বছর আগের স্মৃতি ফিরে এসেছে। সে সময় গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে আগুন ধরিয়ে দিতে সক্ষম ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানো হতো। এসবের কারণে দক্ষিণ ইসরাইলের কৃষিজমিতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী মনে করছে, সাম্প্রতিক এসব ঘুড়ি ও অন্যান্য উড়ন্ত বস্তু পাঠানোর পেছনে হামাসের হাত রয়েছে। তবে এগুলোতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না। ইসরাইলি বাহিনীর ধারণা, ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় তা যাচাই করতেই এগুলো পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ না হলে এসবের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

তাঁরা আরও বলেন, যেসব এলাকা থেকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো হচ্ছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

রোববার বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন নেতানিয়াহু ও কাটজ।

গাজা সীমান্তবর্তী সম্প্রদায়গুলোর একজন নেতা উরি এপস্টেইন ইসরাইলি চ্যানেল ১২-কে বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর তাঁরা আর ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’—এমন আশ্বাস মেনে নেবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘আকাশেই সতর্কবার্তা দেখা যাচ্ছে, আর সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সেনাবাহিনীর দায়িত্ব।’

তবে, ঘুড়ি ও অন্যান্য উড়ন্ত বস্তু পাঠানোর দায় অস্বীকার করেছে হামাস।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এক বিবৃতিতে বলেন, এসব ঘুড়ি গাজা থেকে উড়িয়েছে শিশুরা। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের হারানো শৈশব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা থেকেই তারা এসব করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্য এক বিবৃতিতে হামাস অভিযোগ করেছে, গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকে মধ্য গাজায় বিমান হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল। রোববার ওই বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী সংস্থা।