শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : চীন জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর বেইজিংয়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত একটি গবেষণামূলক চন্দ্রাভিযান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিরল একটি উৎক্ষেপণ ব্যর্থতার প্রায় দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থার বরাত দিয়ে বেইজিং থেকে এএফপি জানিয়েছে, ‘সমন্বিত মূল্যায়নের’ পর দেখা গেছে, লং মার্চ-৫ ক্যারিয়ার রকেটের মাধ্যমে চ্যাং’ই-৭ চন্দ্রযান পাঠানোর এই মিশনটি ‘উৎক্ষেপণের শর্ত পূরণ করছে না’ এবং এ বছর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে না।
সংস্থাটি জানায়, সতর্কতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং মিশনের সাফল্য নিশ্চিত করার নীতির ভিত্তিতেই উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ হয়নি বা নতুন করে কবে উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মিশনটির লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির সন্ধান করা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চন্দ্রযানটি সপ্তাহান্তে অথবা সোমবার উৎক্ষেপণ করা হতে পারে।
গত সপ্তাহে চীনা মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছিল, চন্দ্রযান ও ক্যারিয়ার রকেটটি দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে উৎক্ষেপণস্থলে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার পর্যন্ত উৎক্ষেপণস্থল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ভালো অবস্থায় ছিল এবং সেগুলোর পরিদর্শন শেষে ‘শিগগিরই’ উৎক্ষেপণের কথা ছিল।
চ্যাং’ই-৭ মিশন পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন হাইনান থেকে উৎক্ষেপিত একটি রকেট বিস্ফোরিত হওয়ার ভিডিও ও ছবি প্রকাশের প্রায় দুই সপ্তাহও হয়নি। এতে প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে আগুনের গোলার মতো দৃশ্য দেখতে পান।
ব্যর্থ ওই মিশনে লং মার্চ-৭এ ক্যারিয়ার রকেট ব্যবহার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছিল, রকেটটি ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
রকেটটি একটি ঝংশিং-৪বি যোগাযোগ স্যাটেলাইট বহন করছিল। উড্ডয়নের সময় এতে একটি ‘অস্বাভাবিকতা’ দেখা দেয় বলে সিনহুয়া জানিয়েছিল।
ব্যর্থতার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছিল।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যাকে দেশের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেইজিং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ কর্মসূচিতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।
চীনের মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশটি প্রথমবারের মতো একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়। মহাকাশ কর্মসূচির উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়ন এবং উৎক্ষেপণ ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন ২০৩০ সালের আগে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রও তার আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।