শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ইরানের নাগরিকেরা ‘অনেক সমস্যার’ মুখোমুখি হচ্ছেন বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দেশটির অর্থনীতিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর রোববার তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, এই মুহূর্তে আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা যতটা সম্ভব এসব সমস্যা সামলানোর চেষ্টা করছি।’
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন বলেছিল, নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির মাধ্যমে ইরানি সরকারের ‘পতন’ ঘটানো হবে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ইরান ‘পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে’ রয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তিনি বলছেন, ইরানের ওপর সবচেয়ে কঠোর ও ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন।’
ইরান সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক দফা বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছে। এসব বিক্ষোভের পেছনে প্রায়ই অর্থনৈতিক সংকট কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হারের ওঠানামা, যার ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে একটি আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অস্থিরতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে।
তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলো বলেছে, কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে দমন অভিযান চালিয়েছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে।
রোববার পেজেশকিয়ান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি, জীবিকার সমস্যা ও বেকারত্ব কাটিয়ে উঠতে এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, যাতে তারা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।’