শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করে মামলা করা ঠেকাতে বিতর্কিত একটি আইন পাস করেছে নিউজিল্যান্ড।
ডানপন্থি জোট সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিলটি মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টে ৬৭-৫৩ ভোটে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। ওয়েলিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সরকার বলেছে, দেওয়ানি মামলার মাধ্যমে যেন তাদের জলবায়ু নীতি বাধাগ্রস্ত না হয় এবং ব্যবসায়ীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাই এ আইনের লক্ষ্য।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবেশগত ক্ষতিতে ভূমিকা রাখার অভিযোগে নিউজিল্যান্ডের ছয়টি বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে আদিবাসী মাওরি জলবায়ু অধিকারকর্মী মাইকেল স্মিথের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইনটি করা হয়। আইনটি কার্যকর হওয়ায় স্মিথের আইনি লড়াই কার্যত শেষ হয়ে গেছে। জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরএনজেডকে স্মিথ বলেন, এটি ‘গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিন’।
তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্ট যদি চলমান কোনো মামলা বাতিল করতে পারে, তাহলে কোনো আইনি দাবিই আর নিরাপদ নয়। রাজনৈতিকভাবে অসুবিধাজনক হয়ে উঠলেই তা বাতিল করা সম্ভব।’ স্মিথের মামলায় নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ও পরিচিত কয়েকটি কোম্পানিকে আসামি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল দুগ্ধ খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ফনটেরা।
বিরোধী গ্রিন পার্টির আইনপ্রণেতা স্টিভ এবেল পার্লামেন্টে বলেন, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী পল গোল্ডস্মিথ বলেন, নতুন আইন জলবায়ু সংক্রান্ত দায়িত্বের বিষয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চয়তা দেবে।
গোল্ডস্মিথ বলেন, ‘হাইকোর্টে চলমান মামলায় একজন আবেদনকারী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য ছয়টি বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছেন। এ মামলা এমন একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে, যা পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি ব্যবসার আস্থা ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির দাবি নিষ্পত্তির জন্য আদালত উপযুক্ত জায়গা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এতে ‘জটিল পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা বিষয়’ জড়িত।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ে সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়াই সবচেয়ে ভালো। আদালতে খণ্ড খণ্ড মামলা করে এর সমাধান করা উচিত নয়।’ গত মাসে একটি স্বাধীন জলবায়ু পরামর্শক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, সরকারের নীতির কারণে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে।
আইন করে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সরকার ২০২৫ সালে নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে কমিশনের পরামর্শ উপেক্ষা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পথ পরিবর্তনের সুযোগ এখন খুবই সীমিত।’
কমিশন সতর্ক করে বলেছে, কৃষিকে নিঃসরণমূল্য নির্ধারণের আওতার বাইরে রাখা, পরিবেশবান্ধব যানবাহনের নিয়মে পরিবর্তন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কমানো এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামো স্থাপনের পরিকল্পনার কারণে অন্যান্য খাতে নিঃসরণ কমলেও সামগ্রিকভাবে তা বেড়ে যেতে পারে।
কমিশনের প্রধান নির্বাহী জো হেন্ডি বলেন, এসব তথ্য ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা।’ তিনি বলেন, ‘নিঃসরণ ধীরে ধীরে কমছে। তবে ২০২৪ সালে অগ্রগতি থেমে গেছে। বর্তমান নীতিগুলো প্রয়োজনীয় গতিতে কাজ করছে না।’