শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জাম্বিয়ার প্রধান বিরোধী দল সোমবার বলেছে, গত সপ্তাহের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের বেশ কয়েকজন গ্রেফতার রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মিলিশিয়া বা বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সরকারের করা দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা।
রোববার গভীর রাতে দেওয়া মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩ আগস্ট ভোটের দিন একটি সন্দেহভাজন মিলিশিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। ওই গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
লুসাকা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তামাসমৃদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটিতে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো ভয়ভীতি প্রদর্শন, গ্রেফতার, অপহরণ ও সহিংসতার অভিযোগ তোলে।
সাবেক সরকারি মন্ত্রী ব্রায়ান মুন্দুবিলে নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল এনআরপিইউপি জানিয়েছে, অভিযানটি চালানো হয়েছিল মুন্দুবিলের বাড়িতে। তিনি প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
দলটি সোমবার জানায়, অভিযানের সময় গুলি ছোড়া হয় এবং এক সংসদ সদস্যকে আঘাত করা হয়।
দলটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জাম্বিয়া সরকারের সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগকে এনআরপিইউপি, এর নেতৃত্ব বা সদস্যরা চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।’ তারা বিদ্রোহ, মিলিশিয়া তৎপরতা বা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আরো বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানটি হয়েছিল নির্বাচনের পরদিন, ১৪ আগস্ট।
তবে মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, ‘সন্দেহভাজন মিলিশিয়া সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতারের’ জন্য ১৩ আগস্ট অভিযান চালানো হয়।
মন্ত্রিসভা বলেছে, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা এবং অবৈধ সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরের যোগসূত্র ছিল। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ সৃষ্টি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে সশস্ত্র বিদ্রোহে ব্যবহারের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সামরিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।’
গ্রেফতার ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধী দলের ছয় নেতার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার গভীর রাতে প্রকাশিত সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যায়, ২২৬টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ১৩৫টির ভোট গণনা শেষে হিচিলেমা প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
প্রথম দফাতেই জয়ী হতে একজন প্রার্থীকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হবে। তা না হলে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হবে।