শিরোনাম

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি—এমন কিছু পাখির প্রজাতিকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
এইচ৫ ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যু ঘটেছে। কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়াই ছিল বিশ্বের একমাত্র মহাদেশীয় ভূখণ্ড, যেখানে এইচ৫ ভাইরাসের সংক্রমণ ছিল না।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তবে গত জুনে একটি পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখির শরীরে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর গত সপ্তাহে দেশটির সরকার বন্যপ্রাণীর মধ্যে ব্যাপক পাখি মৃত্যুর প্রথম ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা জানায়।
পাখিদের সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বন্য ও বন্দি—উভয় ধরনের পাখির জন্য লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি চালুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট বলেন, ‘বন্য পাখিকে টিকা দেওয়া কঠিন। পাখিকে টিকা দিতে দুটি ডোজ প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘একবার বন্য পাখি ধরাই কঠিন, সেখানে দুবার ধরা আরও কঠিন। তবে যেখানে বন্য পাখিকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে, সেখানে আমরা তা করব। তবে আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে বন্দি অবস্থায় থাকা পাখিদের টিকা দেওয়া।’
কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আরও ব্যাপকভাবে পাখি মারা যেতে পারে—এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এটি সারা দেশে আরও ছড়িয়ে পড়বে।’
এইচ৫ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বন্য পাখির মধ্যে রয়েছে জলচর পাখি, তীরবর্তী পাখি, সামুদ্রিক পাখি ও শিকারি পাখি।
সোমবার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ২৩১টি নিশ্চিত অথবা সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে, দেশটির হাঁস-মুরগির খামার বা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অর্ধেক বন্য পাখির প্রজাতি এবং ৮৩ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।