শিরোনাম

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর রুশ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে ইউক্রেন সতর্ক করে বলেছিল, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। এর জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার সীমান্তের অনেক ভেতরে হামলা চালাচ্ছে।
রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, জাপোরিঝঝিয়া ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। এতে কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়া শহরের সামরিক-শিল্প কারখানা এবং পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
জাপোরিঝঝিয়ায় আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ জানান, রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা ব্যবহার করে ‘ব্যাপক’ হামলা চালিয়েছে।
তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। এর আগে তিনি পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় রুশ ড্রোন ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানান আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার গানঝা।
এদিকে কিয়েভে স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছু পর একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করেছিল।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রাজধানী ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ মুখে পড়েছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় একটি গুদামে আগুন ধরে যায় এবং একজন আহত হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়া আরও উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন. উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে রাশিয়া নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পেয়েছে।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংখ্যা সীমিত। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা অন্যতম।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টরের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও সীমান্ত থেকে অনেক দূরে অবস্থিত রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে হামলা জোরদার করছে।