বাসস
  ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫

লিবিয়ায় পেট্রোল ট্যাংকে হামলায় ভয়াবহ আগুন

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে জাওয়িয়ায় অবস্থিত একটি বড় পেট্রোল সংরক্ষণ ট্যাংকে হামলার পর আগুন ধরে যায়। সোমবার রাতে আগুনে ট্যাংকটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, ট্যাংকটিতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রোল মজুত ছিল।

ট্যাংকটি জাওয়িয়া শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগারে অবস্থিত। শোধনাগারটির দৈনিক তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।

এনওসি এক বিবৃতিতে জানায়, ব্রেগা অয়েল কোম্পানির মালিকানাধীন পেট্রোল সংরক্ষণের ট্যাংকটি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলার পর ট্যাংকটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি পুরোপুরি ধসে পড়ে।

ব্রেগা অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা কাজ করছেন। পাশাপাশি পাশের ট্যাংকগুলোতে পানি দিয়ে ঠান্ডা করার কাজ চলছে, যাতে আগুন অন্য ট্যাংকে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

এনওসি জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে জাওয়িয়ায় তেল স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হচ্ছে। সপ্তাহান্তে একটি ন্যাফথা সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টে দুটি ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে।

লিবিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা ফেসবুকে জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকর্মীরা  ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এনওসি এ ঘটনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, লিবিয়ার পার্লামেন্টের একটি কমিটিও হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এবং তেল-গ্যাস খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাওয়িয়া শোধনাগারে এই ‘অপরাধমূলক হামলার’ তারা তীব্র নিন্দা জানায়।

লিবিয়ায় আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল মজুত রয়েছে। তবে ২০১১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে বিভক্ত।

বর্তমানে দেশটিতে দুটি সরকার ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারটির নেতৃত্বে রয়েছেন জাতিসংঘ-স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবাহ। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার-সমর্থিত একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন রয়েছে।

ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী দবেইবাহ সোমবার দিনের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজধানীর কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে দবেইবাহ নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন।