বাসস
  ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৪

বৈরী আবহাওয়ায় কিউবার বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): কিউবায় চলতি বছরে ষষ্ঠবারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সোমবার ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়া এ কাজে নতুন করে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপরাষ্ট্রটি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে।

রোববার রাতে রাজধানী হাভানাজুড়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে বাইরে বসে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার দুপুর পর্যন্ত হাভানার প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। এছাড়া মধ্য ও পশ্চিম কিউবার সাতটি প্রদেশেও বিদ্যুৎ আংশিকভাবে চালু হয়।

তবে পরে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা জানায়, খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর সময় চলমান বৈরী আবহাওয়া বিদ্যুৎ গ্রিডে বিঘ্ন ঘটায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে চালু থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলোর ওপর। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতটি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সংস্থাটি জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে যত দ্রুত সম্ভব পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে তারা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে কিউবার অধিকাংশ মানুষ দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি সরবরাহও ব্যাহত হয় এবং প্রচণ্ড গরমে বৈদ্যুতিক পাখাও বন্ধ হয়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। 

৪৩ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক মাইরা রদ্রিগেজ এএফপিকে বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমি মাত্র দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেয়েছি। পানি নেই, কিছুই নেই। আমরা কিউবানরা এখন যে জীবন কাটাচ্ছি, তাকে জীবন বলা যায় না।’

প্রচণ্ড গরমে তিনি তাঁর দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে রাস্তায় আবর্জনায় আগুন দিচ্ছেন এবং হাঁড়ি-পাতিল পিটিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

৬২ বছর বয়সী মেকানিক কার্লোস দুয়েনাস বলেন, ‘এই পরিস্থিতি আর টেকসই নয়। কবে অবস্থার উন্নতি হবে, কেউ বলতে পারছে না। ততদিন আমাদের কষ্ট সহ্য করা ছাড়া ওপায় নেই। সবার পক্ষে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল কেনাও সম্ভব নয়।’

কিউবার বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি তেল, ডিজেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব জ্বালানির সরবরাহ এখন আর নিয়মিতভাবে দেশটির বন্দরে পৌঁছাচ্ছে না।

ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে, কিউবায় তেল সরবরাহ করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। ফলে হাভানার দীর্ঘদিনের মিত্ররাও প্রকাশ্যে সেই ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কেবল একটি রুশ তেলবাহী জাহাজকে কিউবায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। গত মার্চে আসা ওই জাহাজে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল ছিল, যা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই সংকটের জন্য কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করলেও ওয়াশিংটনের দাবি, এর মূল কারণ দেশটির দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা।

কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে থাকা সাতটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চার দশকেরও বেশি পুরোনো। এগুলোতে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।

জ্বালানি অবরোধের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশটিতে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

এদিকে তিন দশক আগে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনা থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি আসেনি। তবে অর্থনীতিকে চাঙা করতে কিউবা ইতোমধ্যে বাজারমুখী কয়েকটি সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে।