শিরোনাম

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জাপানের টোকিওর তামা জুলজিক্যাল পার্কে সন্দেহজনক হিটস্ট্রোকে তিনটি সিংহ মারা গেছে। উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে আরও কয়েকটি সিংহ চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার পার্ক-এর এক মুখপাত্র জানান, প্রচণ্ড আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বড় আকারের প্রাণীগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জাপান গত বছর ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মের মুখোমুখি হয়েছিল। চলতি বছরও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা নতুনভাবে ‘অসহনীয় গরমের দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর্যায়ে পড়ছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে তামা জুলজিক্যাল পার্কের ১৬টি সিংহের মধ্যে ১০টির মধ্যে ক্ষুধামন্দা ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তিনটি সিংহ মারা যায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি সিংহী মঙ্গলবার, আরেকটি শুক্রবার এবং তৃতীয়টি রোববার মারা যায়।
চিড়িয়াখানার এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের পশুচিকিৎসকের মতে, পানিশূন্যতা ও একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার লক্ষণ দেখা যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ হিটস্ট্রোক বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে মনে করা হয় সিংহ গরম সহ্য করতে পারে। তবে জাপানের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিড়িয়াখানার কর্মীরা নানা ধরনের ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। আফ্রিকার শুষ্ক গরমের তুলনায় জাপানের গরমের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, যা ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শেষ দিকে বর্ষা শেষ হওয়ার পর এবার হঠাৎ করেই তীব্র গরম শুরু হয়েছে।
তাপ মোকাবিলায় চিড়িয়াখানায় পানি ছিটানো, বায়ু চলাচল উন্নত করা এবং নির্দিষ্ট স্থানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের মতো ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। বর্তমানে আরও কয়েকটি সিংহের চিকিৎসা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৫ জন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
জাপানে প্রতিবছর গরমজনিত কারণে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটির সরকার।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চরম তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।
জাপানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয় ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট। ওই দিন টোকিওর উত্তরে অবস্থিত ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
তীব্র গরমের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের সময়সূচিও পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে নাগোয়ার ওয়ার্ল্ড কসপ্লে সামিট-এর মতো বড় অনুষ্ঠানও রয়েছে, যার সর্বশেষ গ্রীষ্মকালীন আয়োজন গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়।