শিরোনাম

ব্যাংকক, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : মিয়ানমারের সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। বেসামরিক নেতা হওয়ার পর এটিই তার প্রথম থাইল্যান্ড সফর। তিনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রটিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
সাবেক এই জেনারেল ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থান পরিচালনা করে গণতান্ত্রিক নেতা অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে সব পক্ষ মিলিয়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এপ্রিলে ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসেন। মূলত এটি ছিল সেনাশাসনের ভাবমূর্তি পাল্টানোর প্রচেষ্টা। তবে গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক ও পশ্চিমা দেশগুলো এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে।
প্রতিবেশী থাইল্যান্ড এরপর থেকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ জাতির জোট আসিয়ান (এএসইএএন)-এর মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে আসিয়ান উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনগুলোতে মিয়ানমারের নেতৃত্বকে বাদ দিয়েছে। তবে গত মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেন।
সামরিক পোশাক ছেড়ে বেসামরিক পোশাক গ্রহণের পর মিন অং হ্লাইং কূটনৈতিক সফরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে ভারত, প্রধান মিত্র চীন এবং আসিয়ান সদস্য লাওস সফর করেছেন।
তার ব্যাংকক সফরের আগে গৃহবন্দি অং সান সু চিকে সোমবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানের পর এটিই তার প্রথম কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ।
স্বাধীন মিয়ানমার বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন এএফপিকে বলেন, আসিয়ানে পুনঃঅংশগ্রহণের প্রচেষ্টা মিন অং হ্লাইং-এর জন্য ‘শুধু মর্যাদার বিষয়’। তবে মিয়ানমারের নেতারা আসিয়ানের প্রস্তাবিত ‘পাঁচ দফা ঐকমত্য’ মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, প্রস্তাবে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানানো হয়।
ম্যাথিসন বলেন, তিনি একদিকে আসিয়ানের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে দেখা দিতে চান, আবার অন্যদিকে পাঁচ দফা ঐকমত্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। এটি এক তরফা জয়ের মানসিকতার একটি দৃষ্টান্ত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংককেরও সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের কারণ রয়েছে। মিয়ানমারের সেনা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষ থাইল্যান্ড সীমান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে মিয়ানমারের লাখো শরণার্থী অবস্থান করছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় সাইবার প্রতারণা চক্র ও মাদক পাচারকারীদের উপস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে থাইল্যান্ডকে।