শিরোনাম

ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই রোববার আবারও ব্রাজিলের বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে কটাক্ষ করেছেন। গত সপ্তাহে লুলাকে ‘অপরাধী’ বলায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
এলএন প্লাস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইলেই বলেন, ‘তিনি একজন চোর। তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত। চুরি ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি কারাগারে ছিলেন। তাই তাকে দণ্ডিত ব্যক্তি বলাই ঠিক।’
বুয়েনস আইরেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গত সপ্তাহাহের শেষে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময়ও মাইলেই একই ধরণের মন্তব্য করেন।
সেখানে তিনি আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
ওই ভাষণে তিনি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতিকেও লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন। এর জেরে ব্রাজিল সরকার আর্জেন্টিনা থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে পরামর্শের জন্য দেশে ফিরিয়ে নেয়।
পরে আর্জেন্টিনা তাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সৃষ্ট এই উত্তেজনাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র আদ্রিয়ান রাভিয়ের বলেন, এটি ‘আদর্শগত ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের’ বিষয়।
রোববার মাইলেইকে প্রশ্ন করা হয়, লুলার প্রতি তিনি এত আক্রমণাত্মক কেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘কেউ আপনার কাছ থেকে চুরি করলে সেটাকে কি আপনি আক্রমণাত্মক মনে করেন না? একজন চোরকে ‘চোর’ বলা চুরির ঘটনার চেয়ে অনেক কম গুরুতর।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাকে (লুলাকে) মুক্তি দেওয়া হয়েছিল একটি প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে, তিনি নির্দোষ ছিলেন বলে নয়। তাই তিনি একজন চোর এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা।’
মাইলেই বলেন, ‘আমি এটা করছি, কারণ আমি স্বাধীনতার আদর্শের একজন অগ্রণী সমর্থক।’
লুলা এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ‘অপারেশন কার ওয়াশ’ নামে বহুল আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে তিনি ৫৮০ দিন কারাগারে ছিলেন।
পরে বিচারিক প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে তার দণ্ড বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে মামলার সভাপতিত্বকারী বিচারক পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন বলেও পরবর্তীতে রায় দেওয়া হয়।