শিরোনাম

ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধের ষষ্ঠ মাসে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে একটি সমঝোতার লক্ষ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর বড় ধরণের হামলা চালানোর পরিকল্পনা তিনি স্থগিত করেছেন।
ট্রাম্প রোববার সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা হবে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং চলমান সংঘাতে একটি প্রধান অচলাবস্থার কারণ। শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ও থাকবে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। রোববার ওই প্রণালীর কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের পাশেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া যায়। এতে এই কৌশলগত নৌপথের অস্থির পরিস্থিতিই আবারও সামনে এসেছে।
ট্রাম্প নতুন আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুতেই তেলের দাম কমে যায়। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭২ ডলারে নেমে আসে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। তবে কয়েক মাস ধরে বিরতি দিয়ে চলা কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল।
গত মাসে আবার হামলা শুরু হওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ট্রাম্প ইরানে ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। জ্বালানি অবকাঠামোতেও নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল বলে খবর আসে। এ সময় পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়।
তবে, শনিবার ট্রাম্প সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি বলেন, একটি সমঝোতার ‘রূপরেখা’ তৈরি হয়েছে।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন আমরা আলোচনার মাধ্যমেই এগোচ্ছি। আগামীকাল বিকেল থেকে এটি শুরু হবে।’ তবে কোথায় এবং কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত করে কিছু জানাননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারও তাকে হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছিল। তার দাবি, ওই হামলা হলে তা ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ হতো।
তবে, তেহরান হামলা না চালানোর জন্য ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেÑএমন দাবি ইরানের গণমাধ্যম অস্বীকার করেছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তসহ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যায়। এরপর থেকে ইরান ওই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মোকাবিলায় এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ও আইনপ্রণেতা হাসান গশগভী রোববার বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা জুনে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ওই সমঝোতা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হিসেবে করা হয়নি। এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আলোচনায় পৌঁছানোর ভিত্তি। তবে এতে হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গশগভী বলেন, ‘তারা জানে, এখন মূল বিষয় এবং পুরো পরিস্থিতির চাবিকাঠি হলো হরমুজ প্রণালীর প্রশ্ন। তাই হ্যাঁ, এ বিষয়ে মতবিনিময় চলছে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘শত্রুপক্ষকে তারা যে বিষয়ে স্বাক্ষর করেছে, তা মেনে চলতে বাধ্য করতে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব জাহাজ অবাধে চলাচল করত। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে ইরান প্রণালীটি বন্ধ করে দেয়। এখন দেশটি নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই বিরোধের জেরেই গত মাসে আবার হামলা শুরু হয়। কারণ, ইরান তাদের উপকূলঘেঁষা পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পথ নিয়ে সমঝোতার দিকে এগোচ্ছি, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
এটি উত্তর দিকের পথও নয়, দক্ষিণ দিকের পথও নয়।
এটি এমন একটি পথ, যা উভয় পক্ষের সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান করবে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমঝোতার অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া হবে।
সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলার শুক্রবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এদিকে, রোববার ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন জাহাজটির পাশে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানান। যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সেন্টার জানায়, জাহাজটি এবং এর নাবিকরা সবাই নিরাপদে আছেন।