শিরোনাম

ঢাকা, ২ আগস্ট, ২০২৬(বাসস) : এক সপ্তাহ ধরে চলা দাবানলে গ্রিসে একাধিক এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এ পর্যন্ত ১২ হাজার হেক্টরের বেশি বন ও কৃষিজমি পুড়ে গেছে।
ন্যাশনাল অবজারভেটরির জলবায়ু পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম মেটিও ডট জিআর জানায়, করিন্থ উপসাগরীয় অঞ্চলে পৃথক কয়েকটি দাবানলে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন এথেন্সের কাছে জনপ্রিয় উপকূলীয় গ্রাম পোর্তো জেরমেনোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
এথেন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার আগুন লাগার পর গ্রামটি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
মেটিও ডট জিআর আরো জানায়, এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ক্রিট ও পারোস দ্বীপের দাবানলেও আরও ৬ হাজার হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে প্রবল বাতাস বইতে থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের প্রতিদিনই বহু দাবানলের মোকাবিলা করতে হয়েছে। গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষামন্ত্রী ইভানজেলোস তুরনাস শনিবার বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে।
এ সপ্তাহে দায়িত্ব পালনকালে তিন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন ক্রিটে এবং একজন পেলোপনিস অঞ্চলে মারা যান।
তুরনাস বলেন, ঝোড়ো বাতাসে ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে বিমান পানি তুলতে পারেনি। আবার তীব্র বায়ু অস্থিরতার কারণে অনেক সময় আগুনের ওপর পানি ফেলাও সম্ভব হয়নি।
বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার রাতের দিকে বাতাস কিছুটা কমে এলেও রোববার বৃহত্তর এথেন্স, পাশের ভইওতিয়া অঞ্চল এবং এভিয়া দ্বীপে দাবানলের ঝুঁকি প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, এথেন্স থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পোর্তো জেরমেনো এলাকায় প্রায় ৫০০ অগ্নিনির্বাপণকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
উত্তর পেলোপনিসের আইগিয়ালিয়া এলাকায় আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১০০ অগ্নিনির্বাপণকর্মী কাজ করছেন।
শনিবার গভীর রাতে আয়োনিয়ান সাগরের সেফালোনিয়া দ্বীপেও নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো জলবায়ু সংকটের তীব্র প্রভাব পড়েছে গ্রিসেও। উচ্চ তাপমাত্রা, ঘন ঘন তাপপ্রবাহ এবং খরার কারণে দেশটিতে প্রায় প্রতি গ্রীষ্মেই দাবানল দেখা দেয়।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস এ সপ্তাহে সতর্ক করে বলেন, গ্রীষ্মের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনের তুলনায় তাপপ্রবাহ ও বড় ধরণের দাবানল থেকে তুলনামূলকভাবে রক্ষা পেলেও, গ্রিস এখন ‘কঠিন সময়ের’ দিকে এগোচ্ছে।