শিরোনাম

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলো শুক্রবার দ্বিতীয় প্রান্তিকের বিপুল মুনাফার হিসাব প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এমন সময় এ প্রতিবেদন আসছে, যখন উচ্চ জ্বালানি তেলের দাম ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এক্সনমোবিল এবং শেভরনের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের প্রতিবেদনগুলো মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ফলে এই শিল্পের মুনাফার ওপর আসা ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাবকে প্রতিফলিত করে, যা হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এক অভূতপূর্ব সরবরাহ সংকট তৈরি করেছে।
নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে তেল কোম্পানিগুলোর বড় ধরণের মুনাফা প্রায়ই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের শক্ত সমর্থক ট্রাম্পও পেট্রোলের মূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জুনে তিনি ঘোষণা দেন, শিল্পখাতে কোনো ধরণের ‘অতিরিক্ত মুনাফা আদায়’ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে তিনি বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন।
২৪ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘আমি যা দেখছি, তার চেয়ে অনেক দ্রুত পেট্রোলের দাম কমতে শুরু করা উচিত।’
সে সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও কেন পেট্রোলের দাম আরও কমেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম আবার ৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রতি গ্যালনের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ১০ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের এ আয় প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ইউরোপের বড় তেল কোম্পানিগুলোও চমকপ্রদ আর্থিক ফল প্রকাশ করেছে। শেলের মুনাফা তিন গুণ বেড়ে ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর টোটালএনার্জিসের মুনাফা দ্বিগুণ হয়ে ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
এ বিপুল মুনাফা বৃদ্ধির মূল কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ প্রতিদিন এ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংঘাতের কারণে তেলজাত পণ্যের সরবরাহও কমেছে। এতে পরিশোধন খাতের মুনাফার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এক্সনমোবিলের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এর উৎপাদনেও প্রভাব ফেলেছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোম্পানিটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরানের হামলার কারণে উৎপাদন কমেছে। মে মাসে এক্সনমোবিল জানিয়েছিল, কাতারে এলএনজি উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ব্যারেল তেল-সমপরিমাণ উৎপাদন কমবে।
তবে এসঅ্যান্ডপি ক্যাপিটাল আইকিউর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এক্সনমোবিল দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করবে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
শেভরনের মুনাফা ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যা ২০২৫ সালের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
অক্সফামসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়তে থাকা সত্ত্বেও জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, দাবানল ও বন্যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
অক্সফামের জলবায়ু নীতিবিষয়ক প্রধান মারিয়ানা পাওলি বলেন, ‘মানুষ যখন কষ্টে আছে, তখন এসব কোম্পানির বিপুল মুনাফা করা সত্যিই অন্যায্য।’
অক্সফাম অতিরিক্ত মুনাফার ওপর বিশেষ কর আরোপের পক্ষে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে এ ধরণের করের সমর্থন রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি এখনো আলোচনায় নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নভেম্বরের আগে পেট্রোলের দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসে একাধিক বৈঠক হয়েছে।