বাসস
  ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৯

বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরালেসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উস্কে  দেওয়ার অভিযোগে বলিভিয়ার সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের বিরুদ্ধে বুধবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন দেশটির প্রসিকিউটররা।

মে ও জুন মাসে আন্দীয় দেশটিতে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। এতে কয়েকটি শহরে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয়।

লা পাজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

পরে বিক্ষোভের দাবিতে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজের পদত্যাগ। 

পাজ অভিযোগ করেন, এ অস্থিরতার নেপথ্যে ছিলেন মোরালেস।

অ্যাটর্নি জেনারেল রজার মারিয়াকা বলেন, ওই সময় দেশজুড়ে স্থাপিত কয়েক ডজন সড়ক অবরোধের ঘটনায় চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই বুধবারের এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডানপন্থী নাগরিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের একটি জোট মোরালেস, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মারিও আরগোলো ও আদিবাসী নেতা ভিসেন্তে সালাজারের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ’ ও ‘সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করার পর তদন্ত শুরু হয়।

পরে সরকারের একটি অংশও ওই অভিযোগে যোগ দেয়।

প্রেসিডেন্ট পাজ আরও অভিযোগ করেছেন, কোকা চাষের জন্য পরিচিত চাপারে অঞ্চল থেকে উঠে আসা মোরালেস মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। 

তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট মোরালেস বর্তমানে নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি চাপারে আত্মগোপনে রয়েছেন। 

গত জুনে জরুরি অবস্থা জারি করে পাজ গণঅসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে তিনি সেনাবাহিনী মোতায়েন ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পান।

দুই দশকের সমাজতান্ত্রিক শাসনের পর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছর তিনি ক্ষমতায় আসেন।

মোরালেস গত জুনে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পাজের নবউদারবাদী নীতিগুলো ‘গৃহযুদ্ধকে উসকে দিচ্ছে।’