বাসস
  ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত অন্তত ৮

ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আরেকটি বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করার পর, বৃহস্পতিবার ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

মধ্যঞ্চলীয় ক্রিভি রিগ শহরের কাছে একটি গ্রামের বাড়িতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চার প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৫ বছর ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয়। পূর্ব কিয়েভের একটি জেলায় হামলায় আরও পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলেনস্কি কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার জন্য ইউক্রেনের মিত্রদের প্রতি তার আহ্বান পুনরায় জানান।

ক্রিভি রিহ শহরের প্রতিরক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, এই হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন এবং ‘নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে’ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় পোলতাভা অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানান, একটি গুদামে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ শহরে হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো রাশিয়া ‘ব্যালিস্টিক অস্ত্র দিয়ে রাজধানী আক্রমণ করছে’ বলে অভিযোগ করার পর, কিয়েভ সামরিক প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে রাজধানীতে একজন নিহত এবং দুই জন আহত হয়েছে।

ক্লিটসকো বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয়দের সতর্ক করে বলেন, ‘আরও হামলার ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকুন!’ তিনি আরও জানান, হামলায় বেশ কয়েকটি জেলায় আগুন লেগেছে।

বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশরা কয়েক দিন ধরে একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং আজ রাতে এই হামলা চালানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দয়া করে ইউক্রেনের সব অঞ্চলের মানুষ আজকের বিমান হামলার সতর্কবার্তাগুলোর প্রতি মনোযোগ দিন ও নিরাপদে থাকুন।’

এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

রাজধানীতে থাকা একজন এএফপি সাংবাদিক বিমান হামলার সাইরেন এবং তারপরে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।

শহরের জরুরি সেবা বিভাগের বৃহস্পতিবার শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা বোমায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোতে পানি ছিটাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসটি ছিল ২০২২ সালের এপ্রিলের পর ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ মাস। কারণ, এই মাসে মস্কো ইউক্রেনজুড়ে শহর ও জনপদগুলোতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রায় সাড়ে চার বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করার আংশিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার ওপর পাল্টা হামলা জোরদার করেছে।

জুলাইয়ের শুরুতে, রাশিয়া যখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দিয়েছিল, ঠিক সেই সময়ে ট্রাম্প ইউক্রেনকে সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য) ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

কেবল মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলোই রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ভূপাতিত করতে সক্ষম, তবে ইউক্রেনের পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের চরম সংকট রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান বিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে।