শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : মস্কোর অজান্তে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়ার অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার সন্দেহ প্রকাশ করেছে নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থা।
রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) জানায়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খাবারোভস্কে বসবাসকারী এক ব্যক্তিকে নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওয়েলিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এফএসবির বক্তব্যে বলা হয়, ওই রুশ নাগরিক নিজ উদ্যোগে নিউজিল্যান্ড সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
এফএসবির দাবি, এরপর নিউজিল্যান্ড তাকে এমন তথ্য সরবরাহে রাজি করায়, যা রুশ ফেডারেশনের নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে।
নিউজিল্যান্ড সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস জানায়, সম্ভাব্য বা চলমান গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য না করার দীর্ঘদিনের নীতি তাদের রয়েছে।
তবে সংস্থাটি আরও বলে, ‘এটিও উল্লেখ করা উচিত যে, সঠিক তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম প্রায়ই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস নয়।’
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, গোয়েন্দা-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য না করার প্রচলিত নীতিই তিনি অনুসরণ করবেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিরাপত্তা গোয়েন্দা-সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করি না।’
সাধারণভাবে জটিল গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নাম খুব বেশি জড়িত না থাকলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে 'ফাইভ আইজ' গোয়েন্দা জোটের সদস্য।
পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার গিলেসপি বলেন, রাশিয়ার এ অভিযোগকে ‘অনেক বড় ধরণের সন্দেহের চোখে’ দেখা উচিত।
নিউজিল্যান্ডের ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গিলেসপি এএফপিকে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে গুপ্তচরবৃত্তির কিছু ইতিহাস রয়েছে। তবে প্রায় সব ক্ষেত্রে আমরাই গুপ্তচরবৃত্তির শিকার হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘ইতিহাস বলছে, রাশিয়াই আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করেছে, উল্টোটা নয়।’
গিলেসপির মতে, এ গ্রেপ্তারের ঘটনাকে নিউজিল্যান্ড সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বহুল আলোচিত প্রদর্শনীমূলক বিচার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হতে পারে।’
ইউক্রেনে হামলার জবাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ডও রয়েছে।