বাসস
  ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমায় তেলের দামে বড় পতন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে আশাবাদ

ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা সাময়িক বিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু ও যুদ্ধবিরতি আলোচনার আশা জোরদার হওয়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক ভাবে কমেছে।

ইরানে ১৩ দিন ধরে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সপ্তাহান্তে নতুন হামলা থেকে বিরত রয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘ দূত জানান, ট্রাম্প আলোচনার জন্য ‘কিছুটা সুযোগ দিচ্ছেন।

এর পাল্টা হিসেবে তেহরানও জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ করবে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ চলাচল ও তেল শিল্প কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

চলতি মাসে ইরান ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় এবং এর ফলে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

পরবর্তীতে সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌপথের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে সৌদি জাহাজে হামলা চালায়।

সংঘাত তীব্র হওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা মে মাসের পর প্রথমবার। তবে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকার খবরে শুক্রবার বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পান।

এদিকে ট্রাম্পের নতুন হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এবং রোববার হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইরানের দাবিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার রক্ষার বিষয়ে ‘সাধারণ নীতি ও কার্যকর ব্যবস্থা’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, চীনের উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রচেষ্টার পর পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সোমবার দুই ধরনের প্রধান তেলের দামই কমে যায়। এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমে সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে যায়।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের স্যালি অউল্ড বলেন, ‘সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এতে এই ধারণা আরও জোরালো হচ্ছে যে, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠলে উভয় পক্ষই উত্তেজনা কমানোর পথে যেতে পারে।’

এই ইতিবাচক পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতি পুনরায় বাড়া এবং নতুন করে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কমিয়েছে। এর ফলে বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থানের স্থায়িত্ব এবং এ খাতে বিপুল বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে উদ্বেগ এখনও বিনিয়োগকারীদের ভাবাচ্ছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই এর সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজার আবারও বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা যায়। তাইপে ও সিঙ্গাপুরের বাজারও কমেছে। ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পেরি ওয়ারজিও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করায় জাকার্তার বাজারেও পতন হয়েছে।

অন্যদিকে টোকিওর বাজার কিছুটা বেড়েছে, যদিও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাডভানটেস্ট, কিওক্সিয়া ও টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ অব্যাহত ছিল। হংকং, সিডনি, সাংহাই, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলার বাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

চলতি সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা এসকে হাইনিক্স, স্যামসাং ও জাপানের কিওক্সিয়ার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল ও অ্যামাজনের প্রতিবেদনেও নজর থাকবে। বিশেষ করে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

কেসিএম ট্রেডের টিম ওয়াটারার বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা এখনো প্রযুক্তি খাতে বিপুল মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন। কারণ এই বিনিয়োগ থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পেতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রভাব এবং মূল্যস্ফীতি কমার সাম্প্রতিক তথ্যের মধ্যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি সিদ্ধান্তের দিকেও নজর রয়েছে বাজারের।

তবে, অ্যালিয়াঞ্জ গ্লোবাল ইনভেস্টরসের জেনি জেং সতর্ক করে বলেছেন, জুলাইয়ে নীতিনির্ধারণী বোর্ড সম্ভবত মুদ্রানীতির অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে। তবে বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হতে পারে বলে আমরা এখনও আশা করছি।

এদিকে চীনের শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএক্সএমটি সাংহাই বাজারে তালিকাভুক্তির প্রথম দিনেই ৪৭০ শতাংশ বেড়েছে। এক পর্যায়ে এটি চীনের বৃহত্তম ব্যাংক আইসিবিসিকে ছাড়িয়ে মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়।

ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, আনহুইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে ৯.৮ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা চীনের মূল ভূখণ্ডে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় শেয়ার বিক্রি।