শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার কর্মকর্তারা জানান, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে নতুন করে প্রায় ১ হাজার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির পূর্বাঞ্চলে বর্তমানে ইবোলার এই নতুন প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রদেশে মোট ৩ হাজার ৭৫টি ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে গত ১৫ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগ শনাক্তকরণ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে নতুন করে সংক্রমণ আরও বেশি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গত ১৫ মে শনাক্ত হওয়া এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলা ভাইরাসের ‘বান্দিবুগিও’ ধরন থেকে ছড়িয়েছে। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে। এই অঞ্চলটি দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই প্রাদুর্ভাব আরও কয়েক মাস চলতে পারে। এদিকে বেতন বকেয়া পরিশোধের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে কিছু হাসপাতালে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ানো ইবোলা রোগে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর দেখা দেয়। গত ৫০ বছরে আফ্রিকা মহাদেশে এ রোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বান্দিবুগিও ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার প্রথম স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের এই ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পরীক্ষামূলক টিকা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি সম্ভাব্য টিকা দ্রুত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দুটি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও গবেষণা চলছে।