শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ছাড়াই রোববার আরেকটি রাত পার করেছে ইরান। প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের মধ্যে সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছে ওয়াশিংটন ।
এদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা নতুন করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে চলা মার্কিন বোমা হামলার পর এই বিরতি আবারও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আশা তৈরি করেছে। তবে, মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের কারণেও এই বিরতি হতে পারে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘর্ষের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়। পরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এই জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের বাইরে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, আঞ্চলিক নৌ চলাচল এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোও হামলার শিকার হয়।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বর্তমানে ‘স্থগিত রয়েছে’ বলে জানিয়েছে সিএনএন। পেন্টাগনের এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে তারা এ তথ্য জানায়। যদিও শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও ‘অনেক বড় মাত্রার’ হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অভিযানের মাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা আংশিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। সংবাদমাধ্যমটি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে একই সঙ্গে কয়েকটি ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছেÑএর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কার সম্ভাবনা।
সিএনএন জানিয়েছে, শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন সংঘাত আরও বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কেইন ট্রাম্পকে জানান, সামরিক বাহিনী তার অনুমোদিত যেকোনো অভিযানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। তবে এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও তিনি সতর্ক করেন।
-আরও বড় মাত্রার’ হামলার হুমকি-
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আবার পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমার মনে হচ্ছে তারা আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সামনে দুটি পথ রয়েছেÑএকটি হলো চুক্তিতে পৌঁছানো, অন্যটি হলো ‘আরও অনেক বড় মাত্রার’ হামলার মুখোমুখি হওয়া।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন এটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না। কিন্তু এখন সংঘাত প্রায় পাঁচ মাসে গড়িয়েছে। আসন্ন নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ রিপাবলিকান দলের নেতা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, পেন্টাগন ট্রাম্পের কাছে ১৪তম রাতের হামলার একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিল। তবে তিনি সেটির অনুমোদন না দিয়ে আলোচনার পথকে অগ্রাধিকার দেন।
-নতুন যুদ্ধক্ষেত্র-
এদিকে সংঘাত নতুন একটি ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, শনিবার তারা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর একদিন আগে রিয়াদ হুথি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
গ্রিক বিমানবাহিনীর গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে মোতায়েন গ্রিক সেনাদের পরিচালিত একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইয়ানবুর আকাশে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি জাহাজ থামিয়েছে।
তেহরানের কার্যকর অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালী এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার জন্য ইরানকে দায়ী করা যাবে না। তিনি হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার কোনো সমাধান সম্ভব নয়।”