শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : কিউবার দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক মেডিকেল মিশন কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিউবার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হোসে অ্যাঞ্জেল পোর্তাল মিরান্দাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এই মেডিকেল মিশনের মাধ্যমে কিউবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠায়। কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটিতে প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক আয় হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এর আগে ওয়াশিংটন কিউবার জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের ওপরও কঠোর অবরোধ আরোপ করে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ট্রাম্প কিউবাকেও ‘নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কিউবার বিদেশে চিকিৎসক পাঠানোর কর্মসূচি ‘জোরপূর্বক শ্রম’ এবং ‘মানবপাচারের’ শামিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিউবার কর্মকর্তারা কঠোর আইন ও অর্থনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে কাজ করতে বাধ্য করেন বা সেখানে কাজ চালিয়ে যেতে চাপ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি, চিকিৎসক গ্রহণকারী দেশগুলো যে অর্থ পরিশোধ করে, তার ৫০ থেকে ৯৫ শতাংশ কিউবা সরকার নিয়ে নেয়।
কিউবার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির প্রায় ২৪ হাজার চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী বিশ্বের ৫৬টি দেশে কর্মরত ছিলেন।
তাদের অধিকাংশকেই দুর্গম ও অনুন্নত এলাকায় পাঠানো হয়। কিউবার দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্লাবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করা হয়।
২০২৫ সালে বিদেশে কর্মরত কিউবার চিকিৎসকদের প্রায় অর্ধেকই ভেনেজুয়েলায় দায়িত্ব পালন করেন। গত প্রায় ২৫ বছর ধরে ভেনেজুয়েলা ছিল কিউবার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন।
নগদ অর্থের সংকটে থাকা কিউবার জন্য গত বছর এই কর্মসূচি থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়ে একে ‘মানবিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সেবা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘কিউবার চিকিৎসা সহযোগিতা কর্মসূচির ওপর এই আঘাত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মৌলিক মানবাধিকারের ওপরও আঘাত।’
আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনের বরাতে কিউবার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গেছে, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চিকিৎসকেরা বিদেশি দেশগুলো কিউবাকে যে অর্থ দেয়, এর মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পান।
এর আগে চলতি বছরও ট্রাম্প প্রশাসন এই কর্মসূচির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। সে সময় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশকে চাপ দিয়ে হাভানার সঙ্গে করা চিকিৎসা সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করেছে।