শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জাতিসংঘের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে আর এক সপ্তাহ বাকি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ছয় মহাসচিব প্রার্থী প্রতীকী গুরুত্ব বহনকারী সাধারণ পরিষদের (জেনারেল অ্যাসেম্বলি) হলে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিতর্কে অংশ নেবেন।
এবারের প্রচারণায় এখনো কোনো স্পষ্ট শীর্ষ প্রার্থী সামনে আসেননি। নির্বাচন ঘিরে উল্লেখযোগ্য উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রার্থীরা কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন।
৯০ মিনিটের এই বিতর্কটি ব্লুমবার্গ সম্প্রচার করবে।
জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্পান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট ও সেনেগালের ম্যাকি সাল।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেন, ‘জাতিসংঘের এই টাউন হল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদের প্রার্থীদের ভাবনা, অগ্রাধিকার ও নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি জানার বিরল সুযোগ করে দেবে।’
তিনি বলেন, ‘ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়া বিশ্বে জাতিসংঘের এমন একজন অসাধারণ প্রধান প্রশাসক দরকার, যিনি সংস্থাটিকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে তুলবেন। একই সঙ্গে এমন একজন নেতাও প্রয়োজন, যিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জাতিসংঘ সনদ ও এর তিনটি মূল ভিত্তি রক্ষায় কাজ করবেন।’
বর্তমানে জাতিসংঘ তীব্র আর্থিক ও আস্থার সংকটের মুখে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিযোগ, সংস্থাটি বেপরোয়াভাবে অর্থ ব্যয় করছে, অতিরিক্ত বিস্তৃত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ও প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটিকে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশ মানবাধিকার ও উন্নয়ন— এই বাকি দুই ভিত্তির সমান গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে।
এরই মধ্যে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিটি প্রার্থী তিন ঘণ্টা করে সময় দিয়েছেন।
বেশির ভাগ প্রার্থী সংস্থাকে আরও কার্যকর করতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে মহাসচিবের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য প্রার্থীদের বিষয়ে নিজেদের পছন্দ যাচাই করতে প্রথম দফার গোপন ও নামবিহীন ভোট দেবেন।
এরপর একই ধরনের আরও কয়েক দফা ভোট হবে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে হলে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশের ভেটোর মুখে পড়া যাবে না।
নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।
তিনি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তর ও গণমাধ্যমে এখনো কয়েকটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নামও রয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান।
সব সময় অনুসরণ না হলেও ভৌগোলিক পালাক্রমের প্রচলিত রীতির ভিত্তিতে এবার ল্যাটিন আমেরিকা এ পদটির দাবি জানাচ্ছে।
এ ছাড়া অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়।