বাসস
  ২২ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩১

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের মধ্যেও প্রাণচঞ্চল ইয়াঙ্গুনের মাছের বাজার

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ভোর হতেই মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের মাছের বাজারগুলো কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। হ্লাইং নদীর তীরে স্তূপ করে রাখা বিপুল পরিমাণ টাটকা মাছ বাছাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা।
রাবারের দস্তানা ও বুট পরে তারা গলতে থাকা বরফের মধ্যে নেমে শোয়ে পদাউক মাছের বাজারে মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য নামান। এ বাজারে প্রায় ৫০০ বিক্রেতা রয়েছেন।

ইয়াঙ্গুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এই বাজার এবং পুরোনো সান পিয়া মাছের বাজার ইয়াঙ্গুনের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহরের লাখো মানুষের জন্য প্রোটিনের প্রধান উৎস এসব বাজারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

সরকার গত মে মাসে জানায়, শোয়ে পদাউক বাজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ভিস স্বাদুপানির মাছ ও জলজ পণ্য কেনাবেচা হয়। 

মিয়ানমারের প্রচলিত ওজনের একক ভিস হিসেবে এর পরিমাণ ৬ লাখ ৫০ হাজার কিলোগ্রামেরও বেশি, বা প্রায় ১৪ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড। এ বাজারে সামুদ্রিক মাছও বিক্রি হয়।

তবে মিয়ানমারের অন্য সব স্থানের মতো এ বাজারও পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।

এ কাজ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুলসংখ্যক তরুণ কাজের সন্ধানে বিদেশে চলে গেছেন। 

একই সঙ্গে ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়াতে চালু করা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়াতেও অনেকে দেশ ছেড়েছেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য, একসময় সামুদ্রিক মাছের বড় জোগানদাতা পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

একজন তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস ধরে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক শ্রমিক কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন।’

এখন লবণাক্ত পানির মাছের বেশির ভাগই আসে ইয়াঙ্গুনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরাবতী ব-দ্বীপ অঞ্চল থেকে।

এ ছাড়া ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের দাম বেড়েছে, তবে চাহিদা কমেছে।