বাসস
  ২২ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪০

জাপানে তাপপ্রবাহে প্রায় পুরো দেশে সতর্কতা

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জাপানের বিভিন্ন শহরে প্রথমবারের মতো ‘নিষ্ঠুর গরম দিন’ দেখা গেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তীব্র তাপপ্রবাহ সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করতে এ বছর নতুন এ আবহাওয়াবিষয়ক পরিভাষা চালু করা হয়েছে। দেশটির প্রায় পুরো এলাকাজুড়ে হিটস্ট্রোক সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশের মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এ অবস্থাকে ‘কোকুশোবি’ বলা হচ্ছে, যার অর্থ ‘নিষ্ঠুর গরম দিন’।

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

বুধবার নাগোয়াসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং পূর্বাঞ্চলে টোকিওর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তারও বেশি ছিল।

জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৪১টিতে হিটস্ট্রোক সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া সংস্থা। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক বয়স্ক মানুষকে শীতল পরিবেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় দমকল বিভাগের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, টোকিওর উত্তরে গ্রামীণ তোচিগি অঞ্চলে মঙ্গলবার ৮৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে তার খামারের গ্রিনহাউসের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

তিনি বলেন, ‘গ্রিনহাউসের ভেতরে প্রচণ্ড গরম ছিল।’

জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি বুধবার জনগণকে এ তীব্র তাপপ্রবাহকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, ‘জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে তাপমাত্রা বাড়ছে। সারা দেশে তীব্র গরম অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’

তারা আরও বলেছে, ‘অনেক মানুষ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, এমনকি মৃত্যুও হচ্ছে। তাই, এ তীব্র তাপপ্রবাহকে ‘দুর্যোগ’ বলা মোটেও অতিরঞ্জিত হবে না।’

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং বেশি মাত্রায় ঘটছে।

গত বছর দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে।

জাপানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট। সেদিন টোকিওর উত্তরে ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল।