শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির বাজেট আরও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কাটছাঁট করা হয়েছে। এর ফলে কর্মসূচিটির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমতে পারে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কয়েক বিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ এই খাবার কর্মসূচি প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর অন্যতম প্রধান নীতি। তবে বাস্তবায়নের সময় খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগে এটি সমালোচনার মুখে পড়ে।
জাতীয় পুষ্টি সংস্থার সচিব লিলি খামিলিয়াহ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছরের জন্য কর্মসূচির বাজেট ২৬৮ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ১৪.৯ বিলিয়ন ডলার) থেকে কমিয়ে ২২৯ ট্রিলিয়ন রুপিয়া করা হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের জন্য এ কর্মসূচিতে ৩৩৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপের পর, তা কয়েক দফায় কমানো হয়।
সংস্থার মুখপাত্র আগুস্তিনা আরুমসারি বলেন, এই বাজেট এখনও চূড়ান্ত নয়। কর্মসূচির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার পর আরও কাটছাঁট করা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য প্রেসিডেন্ট আমাদের এক মাস সময় দিয়েছেন।’
জাতীয় সংস্থাটির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এর ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমবে। প্রেসিডেন্ট এখন নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার লক্ষ্য রাখছেন না, বরং মান উন্নয়ন, সঠিক মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো ও নতুন করে খাদ্যে বিষক্রিয়া ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।’
আগুস্তিনা জানান, বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছেন। তবে নতুন বাজেট কমানোর ফলে কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা তিনি জানাননি।
এটি ছিল কর্মসূচির সর্বশেষ বাজেট কাটছাঁট।
গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, স্কুলের ছুটির সময়ে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ সাময়িক বন্ধ রাখা হবে। এতে ৩ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার বেশি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হয়েছিল।
এর আগে, মার্চ মাসে সপ্তাহে ছয় দিন খাবার দেওয়ার পরিবর্তে তা কমিয়ে পাঁচ দিন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় দেশটি ব্যয় কমানোর চেষ্টা করায় এতে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন রুপিয়া সাশ্রয়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়।
জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান নানিক সুদারিয়াতি দেয়াং বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের কথা জানান।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও নানিকের পূর্বসূরি দাদান হিন্দায়ানা ও দুই উপপ্রধানকে বরখাস্ত করেছিলেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ ওঠে।
বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল অন্তত ৮ কোটি ২৯ লাখ শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীকে সহায়তা দেওয়া, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
ইন্দোনেশিয়ার ২০ শতাংশের বেশি শিশু গুরুতর অপুষ্টিজনিত খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে।