বাসস
  ১৭ জুলাই ২০২৬, ২৩:২৮

ইরাকে হামলায় ৮ ইরানি কুর্দি বিদ্রোহী নিহত

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে শুক্রবার চালানো হামলায় ইরানি কুর্দি সশস্ত্র বিরোধী সংগঠন ‘কোমালা’ দলের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। নির্বাসিত এই সংগঠনটি হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।

কোমালা দলের নেতা ইদ্রিস কোলওয়াজির বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার ভোরে সুলাইমানিয়াহ শহরের কাছে সংগঠনটির একটি শিবিরে ও আশপাশের এলাকায় ইরান ড্রোন ও রকেট হামলা চালায়।

তিনি জানান, হামলায় তাদের আট সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরাকে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিরই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সময় কুর্দিস্তান অঞ্চলটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কারণ, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটি, বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম এবং নির্বাসিত ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের অবস্থান রয়েছে। এসব কারণে ইরান ও ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে একাধিক হামলা চালিয়েছে।

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, তেহরান কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখছে। ইরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী পশ্চিমা দেশ ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে।

তবে, শুক্রবারের হামলাকে যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধের পর থেকে এসব গোষ্ঠী তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি ও শিবির খালি করে দিয়েছিল।

এদিকে, কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী জোট কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি সপ্তাহে শহরটিতে এ ধরনের ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার ঘটল।

এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কনস্যুলেট কমপ্লেক্স রয়েছে। এছাড়া শহরটির বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক উপদেষ্টারা অবস্থান করছেন।

কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিট থেকে ৫টা ২৫ মিনিটের সময় জোটের বাহিনী এরবিলের আকাশে আটটি বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে গত বুধবার রাতেও এরবিলের আকাশে আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। এএফপির সাংবাদিকরা জানান, মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় কনস্যুলেটটি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।

এরবিলে এসব হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক জোটের ব্যানারে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তেহরানের সমর্থনে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ৬০০ বারের বেশি হামলা চালিয়েছে।