শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। তিনি এআই প্রযুক্তির বিকাশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার সাংহাইয়ে শুরু হওয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এআই সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স’ বা বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সি এসব কথা বলেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
অনুষ্ঠানে সি চিনপিং আরও বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন কোনো একক দেশের একক অর্জন নয়, বরং এটি হওয়া উচিত সব দেশের সম্মিলিত সহযোগিতার ফল।’
তিনি বলেন, এআই খাতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা বা কোনো একটি দেশের নিরাপত্তাকে অন্য দেশের ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ দেখিয়ে চীনা প্রযুক্তি পণ্য ও উন্নত প্রযুক্তি আমদানির ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার নিয়ে সরকার এবং এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক মতবিরোধও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবেÑসেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘হ্যালো চায়না টেক’-এর গবেষক পো ঝাও বলেন, চীনের এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ দিক বোঝার জন্য ডব্লিউএআইসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়োজনগুলোর একটি।
তিনি বলেন, উন্নত চিপ, অত্যাধুনিক কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং বিপুল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এগিয়ে রয়েছে। তবে চীন এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত প্রতিদ্বন্দ্বী।
-মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে এআই-
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে চীনের এক হাজারের বেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে প্রায় তিন হাজার প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নিজে থেকেই বিভিন্ন অ্যাপ পরিচালনা করতে পারে এমন স্মার্টফোনও রয়েছে।
তবে সম্মেলনের শুরুতেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা, সামরিক সংঘাতে এর ব্যবহার, কর্মসংস্থান এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব।
সি চিনপিং বলেন, ‘এআই যেন সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালা, প্রযুক্তিগত নজরদারি, আগাম সতর্কতা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি এআই উন্নয়নে মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং রাশিয়া, পাকিস্তানও ইন্দোনেশিয়াসহ ২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা একটি আন্তঃসরকারি এআই সহযোগিতা গ্রুপ গঠনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাংহাইভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’-এর লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতা বাড়ানো এবং এআই প্রযুক্তির ‘সুস্থ ও সুশৃঙ্খল’ বিকাশ নিশ্চিত করা।
সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেট এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন দেশের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন।